চুয়েটে তালা ভেঙে দপ্তরে উপাচার্য, শিক্ষার্থীদের নতুন কর্মসূচি
সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৩৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এ ঘটনার প্রতিবাদে উপাচার্য ভবনের নিচে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে ভবন ছাড়ার আলটিমেটাম দিয়ে নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন তাঁরা।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের ক্যাম্পাসে প্রবেশকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের ফটকের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন তিনি। এর প্রতিবাদে উপাচার্য ভবনের নিচে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে আসেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। পরে উপাচার্য ভবনের ফটকের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাও ছিলেন।
উপাচার্যের এভাবে দপ্তরে প্রবেশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আফিফ কবির বলেন, তাঁদের এক দফা দাবি, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মো. সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চলবে। তালা ভেঙে নতুন উপাচার্যের দপ্তরে প্রবেশের ঘটনাকে তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিহা সাবনাম বলেন, কোনো পদে আসীন হওয়া আর সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা এক বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আপত্তি ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে তালা ভেঙে উপাচার্য ভবনে প্রবেশের ঘটনায় তিনি নিন্দা জানান।
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও কর্মবিরতি পালন করছেন।
নিয়োগের পর ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদানপত্র পাঠিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে আন্দোলনের কারণে এত দিন তিনি সরাসরি ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি। এর মধ্যে ১১ ও ১২ অক্টোবরের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা।
এদিকে উপাচার্যকে দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্য ভবন ছাড়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন না ছাড়লে ভবনটিকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা, ফটকে তালা দেওয়া এবং বাইরে থেকে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তাঁরা। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষার্থীদের উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
১৫৭ বার পড়া হয়েছে