রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ১২, দু'জন বাংলাদেশি
রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:১৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। হামলার পর সাময়িকভাবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবারের এ হামলার তথ্য জানেন, এমন তিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশের দুজন নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার বিমানবন্দরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার বিষয়ে অবগত তিন কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যমটি এ তথ্য জানিয়েছে।
সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দুজন করে নয়, বরং বাংলাদেশি দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশের দুজন নাগরিক রয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো আরব দেশে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।
রিয়াদের বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রিয়াদকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও ব্যবসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে চান তিনি। হামলার কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনও ব্যাহত হতে পারে।
এদিকে ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে সৌদি যুদ্ধবিমান ব্যাপক বোমা হামলা চালাচ্ছে। হুতিদের দাবি, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনে শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এসব হামলায় শিশুসহ বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে গোষ্ঠীটি।
রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি। তাঁর দাবি, ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলার জবাব দিতেই এ আক্রমণ চালানো হয়েছে। সৌদি বাহিনী বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আল-বুখাইতি বলেন, ইয়েমেনের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, বিয়ের অনুষ্ঠান ও শোকসভার হল, হাসপাতাল এবং বাজারের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা বা সেগুলোর ক্ষতি করা উচিত নয়—এ বিষয়টি বিশ্বকে বোঝাতেই হুতিরা এ হামলা চালিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, ইয়েমেনের এসব স্থাপনার ক্ষেত্রে যে নিয়ম প্রযোজ্য, বিশ্বের অন্য জায়গায় একই ধরনের স্থাপনার ক্ষেত্রেও তা কার্যকর হওয়া উচিত।
হামলার বিষয়ে সৌদি আরবের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদক বিমানবন্দরের দিকে অন্তত ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স যেতে দেখেছেন। এ সময় পুলিশ বিমানবন্দরে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেয়।
রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কয়েকটি দূতাবাস তাদের নাগরিকদের বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে হামলার বিষয়ে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমরা এইমাত্র সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে জানতে পেরেছি।’
সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে ‘একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে’। তবে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
এর আগে গত বছর হুতিদের লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ট্রাম্প দ্রুত বিজয়ের ঘোষণা দিলেও প্রথম মাসেই মার্কিন বাহিনী প্রায় ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে রিয়াদ ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আভার বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছিল হুতিরা। ওই হামলাগুলোতে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হন।
১০৮ বার পড়া হয়েছে