মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভয় ও কুসংস্কার দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মানসিক অসুস্থতাকে ঘিরে ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকাও সুস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মানসিক স্বাস্থ্যকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। আগামীকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবসটি পালিত হবে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দৃশ্যত সুস্থ থাকাই স্বাস্থ্যের একমাত্র পরিচয় নয়। বরং শারীরিক, মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকার সমন্বিত অবস্থাই প্রকৃত স্বাস্থ্য। এ কারণে মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য কেবল চিকিৎসার বিষয় নয়; এটি মানুষের মর্যাদা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। মানসিক সমস্যায় থাকা কাউকে অবহেলা বা বিচ্ছিন্ন না করে তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। পাশাপাশি তাঁর পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার পথ সহজ করা জরুরি।
এবারের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘অভিজ্ঞতার কথা শোনা: বাস্তব কণ্ঠস্বর, বাস্তব পরিবর্তন’। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করা মানুষের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা এবং সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করা প্রকৃত পরিবর্তনের পূর্বশর্ত।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও বাণীতে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দিতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা, দূরবর্তী পরামর্শসেবা সম্প্রসারণ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সরকারি হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে।
এ ছাড়া গর্ভবতী মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য, শিশু-কিশোরদের মানসিক সুস্থতা এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তরিকতা ও মনোযোগের সঙ্গে মানুষের কথা শুনতে হবে। সহমর্মিতার সঙ্গে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকতে হবে।
একটি কল্যাণমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সরকার, স্বাস্থ্য পেশাজীবী, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি সুস্থ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে কেউ সংকোচ বোধ করবেন না, সহায়তা চাইতে লজ্জা পাবেন না এবং নিজেকে একা বা অবহেলিত মনে করবেন না।
বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও বিশ্বের সব মানুষের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন। একই সঙ্গে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।
১০৮ বার পড়া হয়েছে