রামেবি উপাচার্যকে মারধর ও জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ
বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:১৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক ও সেকশন অফিসার নাজমুল হোসাইনকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে। একদল দুর্বৃত্ত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে তাদের মারধর ও লাঞ্ছিত করার পর এই ঘটনা ঘটায়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও কম্পিউটারের সিপিইউসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয় বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে 'আপামর ছাত্র-জনতা' ব্যানারে একদল ব্যক্তি মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারা নিজেদের যুবদল নেতাকর্মী দাবি করে উপাচার্য ও সেকশন অফিসারকে আওয়ামী লীগের 'দোসর' আখ্যা দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ ঢাকার ঠিকাদারদের দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাদের ওপর চড়াও হওয়া হয়।
একপর্যায়ে আগে থেকে লিখে রাখা পদত্যাগপত্রে উপাচার্য ও সেকশন অফিসার নাজমুলের জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর তাদের কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় হামলাকারীরা। যাওয়ার সময় তারা কক্ষের বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের যন্ত্রপাতি ও কম্পিউটারের সিপিইউ নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী সেকশন অফিসার ও ভিসির পিএস নাজমুল হোসাইন অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় উপাচার্য কর্মকর্তাদের নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি অনলাইন বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। হঠাৎ একদল লোক এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধরও করা হয়।
এদিকে হামলার সাথে যুবদলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজশাহী মহানগর যুবদলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম জনি। তিনি দাবি করেন, ভিডিও ফুটেজে যাদের দেখা গেছে, তাদের কেউ যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান জানান, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
১০৭ বার পড়া হয়েছে