ফরিদপুরে এলপিজি সিলিন্ডারে সরকারি দামের চেয়ে বেশি নেয়ার অভিযোগ
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:০৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দফায় দফায় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ার মধ্যে ফরিদপুরে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। জেলা শহরের পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলা ও প্রত্যন্ত বাজারেও অতিরিক্ত দামে এলপিজি কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজারে আকার ও ব্র্যান্ডভেদে একটি এলপিজি সিলিন্ডার প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও অনেক বিক্রেতা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা করছেন না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জেলা শহরের পাশাপাশি নগরকান্দা, সালথা ও মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন বাজারেও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার বাজারগুলোতে কোথাও কোথাও আরও বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে।
ফরিদপুর শহরের মুজিব সড়কের দুই অটোচালক, একজন হোটেল ব্যবসায়ী ও একজন গৃহিণী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে রান্নার গ্যাসও যদি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হয়, তাহলে সাধারণ পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। সরকারি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকির দাবি জানান তাঁরা।
এলপিজির বাড়তি দামের প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপরও। নগরকান্দা বাজারের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, উপজেলা সদরে একরকম দাম নেওয়া হলেও গ্রামের ছোট বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে সিলিন্ডারের দাম আরও বেশি। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান ও চায়ের দোকানের মতো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে রান্নার কাজে এলপিজি ব্যবহার করা হয়। ফলে গ্যাসের দাম বাড়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গ্যাসের দাম বাড়লেও সেই তুলনায় তাঁদের আয় বাড়েনি। বাড়তি খরচ সামাল দিতে গিয়ে লাভ কমে যাচ্ছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন তাঁরা।
একজন হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, “গ্যাসের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রান্নার খরচও বেড়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে অন্যান্য পণ্যের দামও বেশি। সব মিলিয়ে আগের মতো ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”
তবে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, বাজারে প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ সংকটের কারণে তাঁদেরও বাড়তি দামে সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। পরিবহন ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে দাবি তাঁদের।
একজন খুচরা বিক্রেতা বলেন, “আমরাও বেশি দামে গ্যাস কিনে আনছি। সরবরাহ ঠিকমতো না থাকায় অনেক সময় সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। তবে আমরা ইচ্ছা করে বেশি দাম নিতে চাই না।”
এদিকে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ থাকলেও ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত তদারকি দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুস্মিতা সাহা বলেন, “এলপিজি গ্যাসের দাম নিয়ে বাজার তদারকির জন্য জেলার সব উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
১২৫ বার পড়া হয়েছে