সর্বশেষ

জাতীয়

৩০ নতুন লোকোমোটিভ কেনার সিদ্ধান্ত, বাড়বে রেলের গতি 

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১:৪৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশ রেলওয়ের পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ মিটারগেজ ইঞ্জিনের পরিবর্তে ৩০টি নতুন ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হবে ২ হাজার ৭০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা। বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মিটারগেজ রেলপথে নতুন করে ৩০টি ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা হবে। প্রতিটি লোকোমোটিভের আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৬৯ কোটি টাকা। কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এসব লোকোমোটিভ কেনার কথা প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ নেই। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সরবরাহকারী নির্বাচন করা হবে।

প্রকল্পের মোট ২ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকার মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। বাকি ১ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) ঋণ থেকে জোগান দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির বহরে বর্তমানে ২৯২টি লোকোমোটিভ রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৪টি মিটারগেজ এবং ১২৮টি ব্রডগেজ। রেলওয়ের মেকানিক্যাল কোড-ম্যানুয়েল অনুযায়ী, একটি লোকোমোটিভের অর্থনৈতিক আয়ু ২০ বছর। কিন্তু বহরে থাকা ১১৫টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ ইতিমধ্যে সেই মেয়াদ পার করেছে।

এর মধ্যে ৬২টি মিটারগেজ লোকোমোটিভের বয়স ৪০ বছরের বেশি। দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে এসব ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়েছে এবং নির্ভরযোগ্যতা কমেছে। পুরোনো লোকোমোটিভের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করাও কঠিন ও ব্যয়বহুল। ফলে অনেক সময় এসব ইঞ্জিন দীর্ঘদিন মেরামতের বাইরে পড়ে থাকে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন ৩০টি লোকোমোটিভ যুক্ত হলে মিটারগেজ রেলপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি ট্রেন পরিচালনায় দক্ষতা ও সময়ানুবর্তিতা বাড়ার পাশাপাশি পুরোনো ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরতা কমবে। বিশেষ করে আন্তঃনগর ট্রেন এবং বাড়তে থাকা পণ্য পরিবহনের চাহিদা পূরণে নতুন লোকোমোটিভগুলো ভূমিকা রাখবে।

রেলওয়ের মাস্টার প্ল্যানে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের মিটারগেজ রেললাইনগুলো ডুয়েলগেজে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এই কাজ বিলম্বিত হওয়ায় ২০৫৫ থেকে ২০৬০ সাল পর্যন্ত মিটারগেজ ট্রেন পরিচালনার প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে নতুন মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি করা হয়েছে।

প্রকল্পে শুধু লোকোমোটিভ কেনা নয়, প্রয়োজনীয় ক্যাপিটাল ও কনজুমেবল স্পেয়ার্স, টুলস এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সংগ্রহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকৌশলী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত জ্ঞান হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের কারিগরি বিশেষজ্ঞরা স্থানীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনাকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবেন। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে কারিগরি সহায়তাও দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের উপপ্রধান (রেল পরিবহন) মো. নাজমুল হাসান বলেন, ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ট্রেনের পরিবহন সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) মো. সুবক্তগীন বলেন, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনসেবা বাড়ানোর লক্ষ্যেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এআইআইবির ঋণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। অনুমোদনের পর ক্রয়সংক্রান্ত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।

রেলওয়ের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন লোকোমোটিভ যুক্ত হলে সড়ক পরিবহনের ওপরও চাপ কমতে পারে। রেলপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়লে তুলনামূলক কম খরচে বেশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে সড়ক ও মহাসড়কের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে সরকারি ব্যয়ও কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দেশের অন্যতম ব্যস্ত মিটারগেজ করিডোর ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা রেলপথ। এই পথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় ডিজেল লোকোমোটিভের সংখ্যা কম থাকায় বিদ্যমান চাহিদা পূরণে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নতুন ৩০টি লোকোমোটিভ সেই সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে রেলওয়ে।

১১১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০