কুষ্টিয়ায় মন্দিরের ক্যাশিয়ারের বাড়িতে বিয়ের স্বর্ণ ও পূজার টাকা লুট
সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৯:৩৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মন্দিরের ক্যাশিয়ার অনাথ দাসের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রোববার দিবাগত রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে মেয়ের বিয়ের জন্য তৈরি করে রাখা স্বর্ণালংকার, দুর্গাপূজার চাঁদার ৬১ হাজার ৫০০ টাকা, নগদ অর্থ ও পরিবারের সদস্যদের স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থের মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর দাসপাড়া এলাকায় শ্রী শ্রী সর্বজননী মন্দিরের পাশে এ ঘটনা ঘটে। রোববার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার সকালে প্রতিবেশীর ডাকে ঘুম থেকে ওঠেন অনাথ দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পরে ঘরের ভেতরের অবস্থা দেখে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন তাঁরা। এ সময় ওয়ারড্রব, ড্রেসিং টেবিল ও শোকেসের ড্রয়ার খোলা অবস্থায় দেখতে পান। ঘরের জামাকাপড় ও বিভিন্ন আসবাবপত্রও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল।
পরে খোঁজ করে মেয়ের বিয়ের জন্য তৈরি করে রাখা স্বর্ণালংকার, দুর্গাপূজার জন্য তোলা চাঁদার টাকা, বাড়ির নগদ অর্থ ও স্ত্রীর স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়নি বলে জানান অনাথ দাস।
অনাথ দাস ওই মন্দিরের কেশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির কেশিয়ার হওয়ায় পূজার বিভিন্ন খরচের জন্য স্থানীয়ভাবে তোলা চাঁদার টাকা তাঁর কাছে রাখা ছিল। চুরি হওয়া টাকার মধ্যে ৬১ হাজার ৫০০ টাকা চাঁদার অর্থ ছিল বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে অনাথ দাসের একমাত্র মেয়ে অর্পিতা দাসের বিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে। এ জন্য তিনি আগে থেকেই মেয়ের জন্য স্বর্ণালংকার তৈরি করে রেখেছিলেন। চুরি যাওয়া জিনিসপত্রের মধ্যে ওই গহনাও রয়েছে। অনাথ দাসের মথুরাপুর বাজারে জুতা ও স্যান্ডেলের একটি দোকান রয়েছে।
অনাথ দাস বলেন, রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে তাঁর স্ত্রী একবার ঘুম থেকে উঠে বাড়ির সবকিছু দেখে আবার ঘুমিয়ে পড়েন। তখন পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো দেখতে পান। পরে খোঁজ করে মেয়ের বিয়ের গহনা, পূজার জন্য তোলা ৬১ হাজার ৫০০ টাকার চাঁদার বাক্স, বাড়ির নগদ টাকা ও স্ত্রীর গহনা পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ধারণা, বাড়ির দেয়াল টপকে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
অনাথ দাসের স্ত্রী বলেন, রাত ২টার দিকে ঘুম থেকে উঠে একবার দেখে সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। সকালে উঠে ঘরের সবকিছু এলোমেলো দেখতে পান। পরে তাঁরা কান্নাকাটি শুরু করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন।
ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের দৌলতপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক বাবু দেবনাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের একজনের বাড়িতে চুরির ঘটনা শুনে তিনি সকালে সেখানে যান। মেয়ের বিয়ের জন্য তৈরি করা গহনা, পূজার জন্য তোলা ৬১ হাজার টাকার বেশি চাঁদার টাকা, বাড়ির নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন। চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, চুরির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৮২ বার পড়া হয়েছে