জ্বালানির দাম বাড়ার পর চড়া নিত্যপণ্যের বাজার
শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:৪৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর রাজধানীর বাজারে নতুন করে বেড়েছে চাল, আটা, ময়দা, ডাল, ভোজ্য তেল, ডিম, দুধ ও বিভিন্ন সবজির দাম। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) এক মাসের বাজার বিশ্লেষণেও এসব পণ্যের দাম বাড়ার চিত্র উঠে এসেছে। ব্যবসায়ীরা বাড়তি পরিবহন ব্যয়কে কারণ হিসেবে দেখালেও ভোক্তাদের অভিযোগ, জ্বালানির দাম বাড়ার অজুহাতে অনেক পণ্যের দাম যৌক্তিক হারের চেয়ে বেশি বাড়ানো হচ্ছে।
দেশে গত ২১ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর এর প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে পড়তে শুরু করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি পণ্যের দাম নতুন করে সমন্বয় করা হয়েছে। তবে ভোক্তাদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যের চেয়ে বেশি হারে পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রবণতা দীর্ঘদিনের।
টিসিবির এক মাসের বাজারদর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মাঝারি মানের চালের দাম কেজিতে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং সরু চালের দাম ১ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে। আটা ও ময়দার দাম বেড়েছে তুলনামূলক বেশি। এক মাসে প্যাকেট আটার দাম ৮ শতাংশ এবং প্যাকেট ময়দার দাম ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে খোলা আটার দাম ২ শতাংশ এবং খোলা ময়দার দাম ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়েছে।
ভোজ্য তেলের বাজারেও দাম বেড়েছে। এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২ দশমিক ৫১ শতাংশ, দুই লিটারের বোতলে ৩ শতাংশ এবং পাঁচ লিটারের বোতলে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়েছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১ শতাংশ এবং পাম তেলের দাম ২ শতাংশ বেড়েছে।
ডালের বাজারে বড় দানা মসুর ডালের দাম কেজিতে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়েছে। ছোলার দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ। ডিমের দাম হালিতে বেড়েছে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ ছাড়া বেগুন, শসা ও কাঁচামরিচসহ কয়েকটি সবজির দাম এক মাসে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফার্মের বাদামি ডিমের দাম হালিতে ৫ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকা হয়েছে। আগে এর দাম ছিল ৫০ টাকা। মাঝারি ও সরু চালের দাম কেজিতে প্রায় ২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আটা ও ময়দার দামও ধরন ও প্যাকেটভেদে কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।
খোলা সয়াবিন তেল কোথাও লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকা, আবার কোথাও ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় দানা মসুর ডালের দাম আগে ৯০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও এখন বেশির ভাগ দোকানে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচাবাজারে বেগুন, শিম ও করলাসহ কয়েক ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। অন্যান্য সবজির দামও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ার কথা জানিয়েছেন বিক্রেতারা। সুগন্ধি চালের মধ্যে পোলাও চালের দাম বেড়ে ২১০ টাকা হয়েছে। প্যাকেটজাত পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি দরে।
তরল দুধের দামও বেড়েছে। গত মাসে লিটারপ্রতি ১০০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা ১১০ টাকা হয়েছে। গরুর মাংসের দামও কিছু দোকানে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০০ টাকা হয়েছে। তবে মুরগি ও খাসির মাংসের দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। বিক্রেতাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, শুক্রবারের বাজারে কিছু পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিভিন্ন অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি নতুন অজুহাত হিসেবে যুক্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে এর প্রভাব কয়েকটি পণ্যের বাজারে দেখা যাচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের চালের পাইকারি প্রতিষ্ঠান লাকসাম ট্রেডার্সের ব্যবসায়ী মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন চালের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। সম্প্রতি পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরু ও মাঝারি চালের বস্তায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। পোলাও চালের ক্ষেত্রে মিল পর্যায়ে সরবরাহসংকটের কথা বলে দাম বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিউমার্কেটের একটি তরল দুধের ব্র্যান্ডের সরবরাহকারী বলেন, দুধ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহন—সব পর্যায়েই ব্যয় বেড়েছে। এ কারণে লিটারপ্রতি দুধের দাম ১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতারা জানান, আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে আসায় কয়েকটি সবজির দাম কমতে শুরু করেছিল। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। পাইকারি পর্যায়ে কাঁচা পণ্যের দাম বাড়ায় এর প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।
১৫৩ বার পড়া হয়েছে