সর্বশেষ

জাতীয়

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে ফুটপাত এখন অনেকটাই ফাঁকা

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:৩৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
হকার উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষের পর ঢাকার মিরপুরের ফুটপাত ও সড়কের চিত্র বদলে গেছে। ১০ নম্বর গোলচত্বরসহ আশপাশের এলাকায় ফুটপাত থেকে হকারদের সরিয়ে দেওয়ায় পথচারীরা স্বচ্ছন্দে চলাচল করতে পারছেন। তবে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদে ক্ষোভ জানিয়েছেন হকাররা।

গত বুধবার হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর আবারও অভিযান চালায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এরপর থেকেই মিরপুরের বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুরের ফুটপাতে হকারের উপস্থিতি ছিল খুবই কম।

সরেজমিনে মিরপুরের ১০ নম্বর থেকে ১৪ নম্বর, ২ নম্বর গোলচত্বর, ১২ নম্বর ও শেওড়াপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ ফুটপাতই ফাঁকা। আগে যেসব স্থানে সকাল থেকে হকাররা পসরা সাজিয়ে বসতেন, সেখানে গতকাল কাউকে বসতে দেখা যায়নি। দু-একটি টং দোকানের খাঁচা থাকলেও সেগুলোতে কোনো পণ্য সাজানো ছিল না। কয়েকজন হকারকে আশপাশে ঘোরাফেরা করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়।

ফুটপাত দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের সুযোগ পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে হকারদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। মিরপুর হোপ স্কুলের পাশে পোশাক বিক্রি করা এক হকার বলেন, ফুটপাতে বসতে না পারলে তাঁদের আয় বন্ধ হয়ে যাবে। সরকার যেন তাঁদের বসার ব্যবস্থা করে, অথবা নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবসার সুযোগ দেয়।

মিরপুরের একটি পোশাকের শোরুমের কর্মী রুমন ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছরে এলাকায় হকারের সংখ্যা অনেক বেড়েছিল। এতে ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কের একটি অংশ দিয়েও চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছিল। অনেক হকার খাঁচা বসিয়ে সেখানেও দোকান সাজিয়ে ব্যবসা করতেন।

বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, শুধু উচ্ছেদ করে সমস্যার সমাধান হবে না। পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ করা যাবে না। তিনি হকার আইন প্রণয়ন, নির্দিষ্ট স্থানে হকারদের বসার ব্যবস্থা, উচ্ছেদ বন্ধ, হকারদের তালিকা তৈরি এবং তাঁদের ওপর নিপীড়ন বন্ধের দাবি জানান।

মিরপুর-১০ নম্বরে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সংঘর্ষে আহত সাংবাদিক সিফাতকে গতকাল পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসায় দেখতে যান ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি সিফাতের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন।

পরে সাংবাদিকদের শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ফুটপাতের অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে অভিযান ও হকারদের বিষয়ে কারও সুপরামর্শ থাকলে তা বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, জনগণের চলাচলের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত রাখা হবে। কেউ আবার ফুটপাত দখল করলে আরও কঠোরভাবে অভিযান চালানো হবে।

এদিকে নির্ধারিত স্থান ছাড়া রাজধানীর অন্য কোথাও হকার বসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম। গতকাল বৃহস্পতিবার ধলপুরে পরিচ্ছন্নতা, সড়ক থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও জনভোগান্তির বিষয় পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

আবদুস সালাম বলেন, হকারদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট ফুটপাত ও স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এসব স্থান ছাড়া জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাটের মূল সড়কসহ অন্য কোনো ফুটপাত দখল করে হকার বসলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তাঁদের মালামাল জব্দ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর মডেল থানায় তিনটি এবং কাফরুল থানায় একটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় মোট প্রায় এক হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, সিটি করপোরেশন বাদী হয়ে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় একটি মামলা করেছে। পুলিশ বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় একটি এবং ট্রাফিক পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছে। তিন মামলায় অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার ২৫ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশনের গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। এতে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

১৩৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০