কুষ্টিয়ায় জুয়ার টাকা জোগাতেই বন্ধুকে খুন করে খড়ের নিচে চাপা
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:১১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অনলাইন জুয়ায় হেরে যাওয়া টাকা উদ্ধার করতে বন্ধু রাজা হোসেনকে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু রিফাছ হোসেন। নিখোঁজের দুই দিন পর ফসলি মাঠের খড়ের নিচ থেকে শিয়ালে খাওয়া অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের পর এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত ঘাতক বন্ধুকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর সাতবিল মাঠ এলাকা থেকে বুধবার সকালে রাজা হোসেন (২৫) নামের এক নিখোঁজ যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সকালে মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় স্থানীয় এক কৃষক দেখতে পান, কয়েকটি শিয়াল সড়কের পাশে খড়ের স্তূপের নিচে একটি বস্তুকে নিয়ে টানাটানি করছে। কাছে গিয়ে তিনি এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ঝিনাইদহ থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন ইউনিট এসে আলামত সংগ্রহ করে। গত সোমবার থেকে নিখোঁজ থাকা রাজার পরিহিত পোশাক, স্যান্ডেল ও হাতঘড়ি দেখে ঘটনাস্থলেই তাঁর মরদেহ শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা। নিহত রাজা স্থানীয় কামালপুর গ্রামের ইমাম আলীর ছেলে।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে চারজনকে আটক করে। তাঁদের মধ্যে নিহতের বন্ধু রিফাছ হোসেন (২৬) পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। রিফাছের স্বীকারোক্তির বরাতে পুলিশ জানায়, রাজার কাছ থেকেই তিনি অনলাইন জুয়ার নেশা রপ্ত করেছিলেন। জুয়া খেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হারানোর পর সেই দেনা পরিশোধের জন্য তিনি রাজাকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার রাতে রাজাকে ডেকে নিয়ে প্রথমে মাদক সেবন করানো হয়। এরপর জাল দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করার পর লাশটি খড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। হত্যার পরও ঘাতক রিফাছ রাজার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তাঁর পরিবারের কাছে বড় অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করেছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত একমাত্র অভিযুক্ত রিফাছকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
১২১ বার পড়া হয়েছে