সর্বশেষ

সারাদেশ

মোংলায় পাওনা টাকা চাওয়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে হুমকির অভিযোগ

রেজা মাসুদ, মংলা
রেজা মাসুদ, মংলা

বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:১৭ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
বাগেরহাটের মোংলায় বকেয়া পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক চাল ব্যবসায়ী ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে গালিগালাজ, ভয়ভীতি দেখানো এবং সাংবাদিক ও প্রেস ক্লাবের নেতার পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নৌ-ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী মো. ওবায়দুল ইসলাম নিরাপত্তা ও পাওনা টাকা উদ্ধারের দাবিতে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

মো. ওবায়দুল ইসলাম মোংলা বাজারের চালের আড়তদার আতিকুল্লাহর কাছে ৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় তিনি সহকারী পুলিশ সুপার (মোংলা সার্কেল), মোংলা প্রেস ক্লাব ও পৌর বিএনপির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে ওবায়দুল ইসলাম বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে খুলনা থেকে নৌপথে চালসহ বিভিন্ন পণ্য মোংলা বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করে আসছেন। ব্যবসায়িক সূত্রে আতিকুল্লাহর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচয় ও লেনদেনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ওবায়দুলের দাবি, পারিবারিক ও আর্থিক সংকটের কথা জানিয়ে আতিকুল্লাহ বিভিন্ন সময়ে তাঁর মাধ্যমে খুলনা থেকে জামানত ছাড়াই চাল সংগ্রহ করেন। পরবর্তী সময়ে হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সরবরাহ করা চালের বিপরীতে আতিকুল্লাহর কাছে তাঁর ৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে।

অভিযোগকারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য আতিকুল্লাহকে তাগাদা দিলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে সময় পার করতে থাকেন। সম্প্রতি আবারও পাওনা টাকা চাইতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আতিকুল্লাহর ছেলে এম এম ফিরোজ পাওনা টাকা পরিশোধ না করে ওবায়দুল ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একই সঙ্গে নিজেকে মোংলা প্রেস ক্লাবের নেতা ও সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করা হয়েছে।

ওবায়দুল ইসলামের অভিযোগ, তাঁকে ভুয়া ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।

ওবায়দুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পাওনা টাকা আটকে থাকায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে হয়রানি ও হুমকি দেওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, পাওনা ৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মোংলা প্রেস ক্লাবের বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের কয়েকজন সদস্য বলেন, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপরাধ বা পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধে প্রেস ক্লাবের নাম ব্যবহার করার সুযোগ নেই। কেউ সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি দেখালে বা সাংবাদিকতার পরিচয়ের অপব্যবহার করলে তার দায় সংগঠন নেবে না। তবে অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে তাঁরা জানান।

সহকারী পুলিশ সুপার (মোংলা সার্কেল) মো. রেফাতুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ তাঁরা পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে।

তিনি বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে কাউকে ভয় দেখানো কিংবা কোনো পরিচয় বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ নেই। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে আতিকুল্লাহ ও তাঁর ছেলে এম এম ফিরোজের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

১১২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০