হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে গোপালগঞ্জ বেতারে নতুন ৩ নাটকের রেকর্ডিং শুরু
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
আধুনিক প্রযুক্তির দাপটে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী বেতার নাটক পুনরুজ্জীবিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বেতার। গোপালগঞ্জ কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয়েছে নতুন তিনটি বেতার নাটকের রেকর্ডিংয়ের কাজ। এই মহতী উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে শব্দনির্ভর এই শিল্পের সোনালী অতীত ও স্বাদ পৌঁছে দেওয়ার নতুন লড়াই শুরু হয়েছে।
এককালের জনপ্রিয় বিনোদন মাধ্যম ‘বেতার নাটক’ বাঙালির ড্রয়িংরুম ও আড্ডার অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। সময়ের আবর্তনে রঙিন টেলিভিশন, স্মার্টফোন আর সোশ্যাল মিডিয়ার ভিড়ে সেই জৌলুস অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। তবে শব্দনির্ভর এই শিল্পের আবহ সংগীত আর কণ্ঠের জাদুতে শ্রোতাদের মনে নতুন করে কল্পনার জগত তৈরি করতে বাংলাদেশ বেতারের গোপালগঞ্জ কেন্দ্র এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে।
নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ বেতারের খুলনা কেন্দ্র থেকে প্রচারিত রম্য নাটিকা ‘আয়না’ দুই বাংলার শ্রোতাদের কাছে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছিল। ‘সুরত আলী’ ‘ইজ্জত আলী’ ও ‘ময়না ভাবী’র মতো চরিত্রগুলো সে সময় ঘরে ঘরে জনপ্রিয়তা লাভ করে। দৃশ্যমান কোনো সাজসজ্জা ছাড়াই শুধু শব্দের নিখুঁত কারসাজিতে শ্রোতারা নিজের মনে সম্পূর্ণ দৃশ্যপট তৈরি করে নিতেন। সেই সোনালী দিনগুলো ফিরিয়ে আনতেই এই নতুন প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে।
গোপালগঞ্জ কেন্দ্রে বর্তমানে তিনটি ভিন্ন দিবসের জন্য বিশেষ নাটক রেকর্ডিংয়ের কাজ চলছে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মীর নাসির আহমেদ নিউটনের প্রযোজনায় তৈরি হচ্ছে নাটক ‘লজ্জিত হোক তারা’। এছাড়া স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে সোলাইমান খোকার নির্দেশনায় ‘একটি বিশেষ ঘোষণা’ এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ‘এলো খুশির ঈদ’ নাটকের রেকর্ডিং চলছে জোরকদমে। এসব নাটকে স্থানীয় নাট্যশিল্পীদের পাশাপাশি ঢাকার খ্যাতিমান অভিনয়শিল্পীরাও অংশ নিচ্ছেন।
কণ্ঠশিল্পী বনশ্রী অধিকারী জানান, অডিও মাধ্যম অত্যন্ত শক্তিশালী একটি প্রচার মাধ্যম। সঠিক পরিকল্পনা ও অবহেলা দূর করা গেলে বেতার নাটক আবার তার গৌরবময় স্থান ফিরে পাবে। জাতীয় নাট্যকার শতাব্দী ওয়াদুদ মনে করেন, শ্রোতাদের আগ্রহ ধরে রাখতে অনুষ্ঠান পরিকল্পনায় নতুনত্ব আনা প্রয়োজন। দর্শক-শ্রোতারা ঠিক কী ধরনের গল্প চান, তা বুঝতে পারলে বেতারের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়বে না।
বাংলাদেশ বেতার গোপালগঞ্জ কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক সৈয়দ রাজু আহম্মেদ বলেন, বেতারের মূল প্রাণ হলো নাটক ও গান। বেতার নাটক হারিয়ে যায়নি, এখনো এর বিপুল সংখ্যক শ্রোতা রয়েছেন। আধুনিক শ্রোতাদের কথা চিন্তা করে নাটকগুলো সম্প্রচারের পাশাপাশি বেতারের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলেও আপলোড করা হবে, যাতে শ্রোতারা তাদের সুবিধাজনক সময়ে শুনতে পারেন।
১১৯ বার পড়া হয়েছে