পঞ্চগড়ে প্রান্তিক শিশুদের নিয়ে শুরু হলো অনন্য ‘সিলেবাস থিয়েটার’
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:১৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় প্রান্তিক শিশুদের মেধা ও মনন বিকাশে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘সিলেবাস থিয়েটার’ কার্যক্রম। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘কারিগর’-এর বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যবইয়ের গল্প নিয়ে নাটক মঞ্চস্থ করছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পড়ালেখার পাশাপাশি শিশুদের সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পঞ্চগড় জেলার সীমান্ত উপজেলা তেঁতুলিয়ার সারিয়ালজোত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সম্প্রতি এই ব্যতিক্রমী কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন। প্রান্তিক এলাকার সাংস্কৃতিক সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের বিদ্যালয়ের পাঠ্যक्रमকে নাট্যরূপ দিয়ে শিক্ষাদানের লক্ষ্যে এই অভিনব কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এ কর্মসূচির আওতায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ৫টি শ্রেণি থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি বিশেষ ‘থিয়েটার ক্লাব’ গঠন করা হয়। নাটকে অভিনয়ের আগে শিক্ষার্থীদের একটানা ৭ দিনব্যাপী থিয়েটার ও জীবনমুখী নানাবিধ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ধ্যান, শরীরচর্চা, সঠিক উচ্চারণ, সাবলীল বাচনভঙ্গি, অভিনয়, গল্পপাঠ, সঙ্গীত, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পরিবেশ সচেতনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
উদ্বোধনী দিনে সারিয়ালজোত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব থিয়েটার ক্লাব ‘সারিয়াল থিয়েটার’-এর ব্যানারে ‘বাঁশিওয়ালা’ নাটকটি মঞ্চস্থ করে। নাটকটির নির্দেশনা দেন কারিগরের নির্বাহী পরিচালক সরকার হায়দার। কোমলমতি আরুশা, সারা, আশরাফি, রোমিও ও মেহেদীসহ ২৫ জন খুদে শিক্ষার্থীর প্রাণবন্ত অভিনয় উপস্থিত দর্শক ও অভিভাবকদের মুগ্ধ করে। নাটকটির প্রযোজনায় ছিলেন রেজাউল ইসলাম এবং সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন রইসউদ্দিন।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সরকার হায়দার জানান, প্রান্তিক অঞ্চলের শিশুরা সাধারণত সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে বঞ্চিত থাকে। কিন্তু তাদের পাঠ্যবইতেই অনেক চমৎকার গল্প ও নাটক রয়েছে। সিলেবাসের এই গল্পগুলোকে নাট্যরূপ দিয়ে শিশুদের সামনে উপস্থাপন করলে পড়ালেখা অনেক বেশি আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে তেঁতুলিয়া উপজেলার ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম চলবে এবং পরবর্তীতে এই দশটি নাটক নিয়ে একটি নাট্য উৎসবের আয়োজন করা হবে।
উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন বলেন, থিয়েটার কেবল অভিনয় নয়, এটি একটি সামগ্রিক শিল্পমাধ্যম। এই চর্চা শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে, মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ ঘটাতে এবং সৃজনশীলতা ফুটিয়ে তুলতে অনন্য ভূমিকা রাখবে। এই সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমাম রাজী টুলু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সীমা শারমিন এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
১৮৩ বার পড়া হয়েছে