সর্বশেষ

সারাদেশ

জীবিত থেকেও মৃত, বয়স্ক ভাতাও পাচ্ছেন না দুর্গাপুরের আব্দুল মজিদ

দেবল চন্দ্র দাস, নেত্রকোনা
দেবল চন্দ্র দাস, নেত্রকোনা

সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:৪১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চণ্ডিগড় ইউনিয়নের মউ গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ আব্দুল মজিদ বাস্তবে জীবিত থাকলেও সরকারি নথিপত্রে তাকে ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে।

দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি নিয়মিত বয়স্ক ভাতা পেলেও গত ১৮ মাস ধরে সেই ভাতা বন্ধ রয়েছে। কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠানো তালিকায় তাকে মৃত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জীবিত মানুষকে মৃত দেখিয়ে অন্যের নামে ভাতা চালুর পেছনে সাবেক স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সমাজসেবা কর্মীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।

বৃদ্ধ আব্দুল মজিদ বলেন, “আগে ভাতা পেতাম। কিন্তু গত ১৮ মাস ধরে কোনো টাকা পাচ্ছি না। অফিসে গেলে বলে আমার নামের পাশে লাল কালি দিয়ে কেটে দেওয়া হয়েছে।” এই বয়সে এসে ছেলেদের সংসারে বোঝা হয়ে থাকতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি আরও বলেন, “আমি বয়স্ক মানুষ, নিজের কোনো আয়-রোজগার নেই। ছেলেদের ওপর নির্ভর করে চলতে হয়। আমার নামের পাশে তারা ‘মৃত’ লিখে রেখেছে।”

আব্দুল মজিদের ছেলে মো. আবুল বাশার জানান, হঠাৎ করে তার বাবার ভাতা বন্ধ হয়ে গেলে তারা ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করেন। সেখানে নূর ইসলাম নামে এক কর্মী এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুল মেম্বারের কাছে একাধিকবার ধর্ণা দেন তারা। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ঘুরেও কোনো সমাধান পাননি। বরং চা-নাস্তার কথা বলে তাদের কাছ থেকে বারবার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মেম্বার ও নূর ইসলাম মিলে আমার বাবার নাম কেটে অন্য কারও নাম বসিয়ে টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেছে। বিভিন্ন অজুহাতে, যেমন চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর, আইডি কার্ডের ফটোকপি আনার কথা বলে আমাদের দীর্ঘদিন ঘুরিয়েছে। ১৮ মাস পার হলেও আমার বাবা এক টাকাও ভাতা পাননি।”

একজন জীবিত বৃদ্ধকে মৃত দেখানোর ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশী মো. মাসুদুর রহমান ফকির বলেন, “আব্দুল মজিদ আমার প্রতিবেশী। তিনি ১৫ বছর ধরে ভাতা পাচ্ছিলেন। হঠাৎ তাকে মৃত দেখিয়ে ভাতা বন্ধ করে দেওয়া চরম অবহেলা ও দুর্নীতির উদাহরণ। যারা একজন জীবিত মানুষকে কাগজে-কলমে মৃত বানিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।” এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মাঠপর্যায়ের সমাজসেবা কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ চলছে।

চণ্ডিগড় ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আব্দুল মজিদ তার ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী এবং তিনি তাকে সম্মান করেন। জীবিত মানুষকে মৃত দেখানোর ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি দাবি করেন, সমাজসেবা অফিসের কাগজে লাল কালি দিয়ে টিক চিহ্ন দেওয়ার মাধ্যমে তাকে মৃত দেখানো হয়েছিল। এছাড়া সমস্যার সমাধানের জন্য তিনি নিজে ভুক্তভোগীর ছেলেকে নিয়ে কয়েকবার সমাজসেবা অফিসে গিয়েছেন বলেও জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দায়িত্বে নেই বা এলাকা ছাড়া রয়েছেন।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুল তালুকদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দায় ইউনিয়ন পরিষদের ওপর চাপান। তিনি বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রতিস্থাপনের জন্য যে তালিকা পাঠানো হয়, সেখানে মৃতদের নাম বাদ দিয়ে নতুনদের নাম যুক্ত করা হয়। ওই তালিকায় ইউনিয়ন পরিষদ আব্দুল মজিদকে মৃত ঘোষণা করে রেজুলেশন ও প্রত্যয়নপত্র পাঠিয়েছে। সেই অনুযায়ী আমরা তার ভাতা বন্ধ করে অন্যজনকে প্রদান করেছি।”

অন্যদিকে, দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে দ্রুত আব্দুল মজিদের বয়স্ক ভাতা পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করা হবে।

১৪৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন