হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে উত্তেজনা: তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়াল
সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর কঠোর হুমকির পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১০.৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া ক্রুড তেলের দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে ১১২.৪০ ডলারে পৌঁছেছে।
এর আগে রোববার (৫ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, মঙ্গলবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো- বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালাবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রতিশোধের হুমকি দিয়ে আসছে তেহরান। তারা সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে কোনো জাহাজ চলাচল করলে তা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ পথে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিমান হামলায় ইরানকে “প্রস্তর যুগে” ফিরিয়ে নেওয়া হতে পারে।
এদিকে রোববারও উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। ইরান কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় একাধিক হামলার কথা স্বীকার করেছে।
সোমবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, তাদের দেশের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ লক্ষ্য করে আরও বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালানো হবে।
অন্যদিকে, সৌদি আরব ও রাশিয়াসহ বড় তেল উৎপাদক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস রোববার মে মাসের জন্য উৎপাদন সামান্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিদিন অতিরিক্ত দুই লাখ ছয় হাজার ব্যারেল উৎপাদনের পরিকল্পনা থাকলেও, বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- সংঘাতের কারণে জোটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ বাস্তবে উৎপাদন বাড়াতে পারছে না, ফলে এ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কার্যকর নাও হতে পারে।
১৫১ বার পড়া হয়েছে