ময়মনসিংহ মেডিকেলে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছিত, তদন্তের আশ্বাস কর্তৃপক্ষের
রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬ ৬:২৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নারী চিকিৎসকের সঙ্গে বিরোধের জেরে একাধিক সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৯ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি আবু সালেহ মো. মুসার নেতৃত্বে কয়েকজন সাংবাদিক হাম রোগের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে হাসপাতালে যান। তারা রোগীদের অবস্থা জানতে এবং সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকার নিতে চাইলে সেখানে দায়িত্বরত এক নারী চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের ব্যবহৃত ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং নিরাপত্তাকর্মীদের ডেকে তাদের ওয়ার্ড থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় লাঞ্ছিতদের মধ্যে দেশ টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান কাউসার মিয়া, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান সুমন আহমেদ এবং স্থানীয় অনলাইন টেলিভিশনের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।
সাংবাদিক আবু সালেহ মো. মুসা জানান, তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই সংবাদ সংগ্রহে যান। হাম রোগের প্রকোপ বাড়ায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এমন আচরণের মুখে পড়তে হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ময়মনসিংহ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত রায় বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। জড়িত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
একই সুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের আচরণ সাংবাদিকতা পেশার জন্য হুমকিস্বরূপ।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকরা তার অনুমতি নিয়েই হাসপাতালে প্রবেশ করেছিলেন। ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
১২০ বার পড়া হয়েছে