সর্বশেষ

সারাদেশ

হাম আতঙ্কে ময়মনসিংহ: ১২ দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু, রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম হাসপাতাল

আওলাদ রুবেল, ময়মনসিংহ
আওলাদ রুবেল, ময়মনসিংহ

রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬ ৬:২২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত ১২ দিনে হাম আক্রান্ত হয়ে ১০৬ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, এর মধ্যে মারা গেছে ৫ শিশু। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩ শিশু ভর্তি হয়েছে এবং একই সময়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে হামের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। রোগীর চাপ সামাল দিতে গত ২৪ মার্চ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিনটি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করে এবং পৃথক ‘হাম কর্নার’ চালু করে। নতুন ভবনের ৬ তলার ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে এই কর্নার পরিচালিত হলেও ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় অনেক শিশুকে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ১০ শয্যার কক্ষে ১৫-১৬ জন পর্যন্ত শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। কোথাও এক বিছানায় দুই রোগীকেও থাকতে হচ্ছে। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি আইসোলেশন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রথমে জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। অনেকেই শুরুতে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিলেও অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে আসছেন। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়াসহ জটিলতাও দেখা দিয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশি বা সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহসহ মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বর্তমানে ভর্তি শিশুদের অনেকেই এসব জটিলতায় ভুগছে।

হাম ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. গোলাম মওলা জানান, টিকা নেওয়া ও না নেওয়া—উভয় ধরনের শিশুই আক্রান্ত হচ্ছে। তবে টিকাদানে ঘাটতি সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আক্তারুজ্জামান বলেন, রোগীর চাপ বেশি থাকায় সম্পূর্ণ পৃথকীকরণ কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর প্রতিনিধিরা নমুনা সংগ্রহ করে সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান করছেন।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, করোনা পরবর্তী সময়ে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াও বর্তমান পরিস্থিতির একটি কারণ হতে পারে।

এদিকে জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সল আহমেদ জানান, জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আলাদা বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বহির্বিভাগে শিশুদের জন্য বিশেষ ‘ফিভার ক্লিনিক’ চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন