১৯৯তম ঈদ জামাতে শোলাকিয়ায় ভিড়, নিরাপত্তা কড়া
শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬ ৮:০৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণ ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হলো ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত। ইমামতি করেন মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।
নামাজ শুরুর আগে সর্টগানের ছয়টি ফাকা গুলি ছুঁড়ে ঈদ জামাত শুরু হয়। জেলা পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চার স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। মুসল্লিদের মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করে মাঠে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়।
ভোর থেকেই নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঈদগাহে মুসল্লিদের ঢল নামে। সাত একর আয়তনের মাঠ জামাত শুরুর এক ঘণ্টা আগে কানায় কানায় ভরে যায়। অনেকেই পাশের রাস্তা, নদীর পাড় ও আশপাশের বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন। নারীদের জন্য শহরের সরযূবালা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৃথক জামাতের আয়োজন করা হয়।
নামাজের আগে মুসল্লিদের স্বাগত জানান কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা ও জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল।
২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার পর শোলাকিয়া ঈদগাহে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এবার চার প্লাটুন সেনাবাহিনী, পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, প্রায় ১১০০ পুলিশ, শতাধিক র্যাব ও আনসার সদস্য দায়িত্বে ছিলেন। ড্রোন ক্যামেরা, সিসি ক্যামেরা, ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার, অ্যান্টি-টেররিজম ও বোম ডিসপোজাল ইউনিটও মোতায়েন করা হয়।
শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানিয়েছেন, এবার দুই লক্ষাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করেছেন। ঈদের দিন যাতায়াতের সুবিধার্থে শোলাকিয়া স্পেশাল নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চালানো হয়।
নামাজ শেষে মুসল্লিরা বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধ, মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করেন।
ঈদগাহটির ঐতিহ্য শুরু ১৮২৮ সালে। তখন সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতেন। এরপর থেকে শোলাকিয়া ঈদগাহ হিসেবে এটি পরিচিতি লাভ করেছে।
১০৬ বার পড়া হয়েছে