কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ৯ বছরের শিশুকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ
সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬ ৫:৩৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক কিশোরের বিরুদ্ধে।
নিহত শিশুর নাম রাইসা ইসলাম। সে বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রি নজরুল ইসলামের মেয়ে। রাইসা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
এর আগে একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নে শিশুটির ওপর এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, রাইসার একটি বড় ভাই রয়েছে। তাদের মা অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছেন। বড় ভাই ঢাকায় একটি ফলের দোকানে কাজ করেন এবং বাবা নজরুল ইসলাম কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা তসলিম জানান, ঘটনার সময় রাইসার বাবা বাড়িতে ছিলেন না। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রতিবেশীদের ডাকাডাকি এবং রাইসার চিৎকার শুনে তিনি নজরুল ইসলামের ঘরের সামনে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন রাইসার শরীরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে।
তিনি দ্রুত এক বালতি পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে রাইসাকে কোলে নিয়ে পাশের নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আগুন নেভান।
তসলিম বলেন, রাইসাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় প্রতিবেশী জালাল সিকদারকে দেখে সে কাঁদতে শুরু করে। তখন রাইসা বলতে থাকে, জালাল সিকদারের ছেলে সিফাত সিকদারের কারণে তার শরীরে আগুন লেগেছে। ঘটনার পর সিফাতকে আশপাশে আর দেখা যায়নি।
তবে আদৌ কেউ তার গায়ে আগুন দিয়েছে, নাকি অন্য কোনোভাবে আগুন লেগেছে, অথবা সে নিজেই আগুন দিয়েছে কি না—এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।
ঘটনার পর রাইসাকে প্রথমে পাশের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।
তসলিম জানান, ঢাকায় পৌঁছাতে রাত হয়ে যায়। হাসপাতালে ভর্তি করার পর তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। চিকিৎসকরা জানান, রাইসার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকরা জানান, রাইসা মারা গেছে। তখন রাত প্রায় সাড়ে ১০টা।
বর্তমানে রাইসার মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি বা পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
১২০ বার পড়া হয়েছে