গোয়াইনঘাটে গৃহবধূকে মারধর ও শ্লীলতাহানি, স্বর্ণালংকার-নগদ লুটের অভিযোগ; থানায় অভিযোগ
রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬ ৫:২৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটের গোয়াইনঘাটে দিনে-দুপুরে বসতবাড়িতে ঢুকে এক গৃহবধূকে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) উপজেলার ৬ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের লামা ফতেপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত গৃহবধূ শামীমা বেগম (৪২) বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের তিন ছেলে— মিনহাজ উদ্দিন (২২), নোমান উদ্দিন (২৮) ও মিজান আহমদ (২৬) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মিনহাজ উদ্দিন ভুক্তভোগীর ছেলের বন্ধু হওয়ায় পূর্ব থেকেই ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন। তার অসদাচরণের কারণে তাকে বাড়িতে আসতে নিষেধ করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। গত ১৩ মার্চ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে মিনহাজ ঘরে ঢুকে আলমারির ড্রয়ার থেকে প্রায় এক ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১৯ হাজার ৭৫০ টাকা নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
এ সময় শামীমা বেগম বাধা দিলে মিনহাজ ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর শুরু করে। অভিযোগে বলা হয়, এক পর্যায়ে মিনহাজ শামীমা বেগমের তলপেটে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এরপর নোমান উদ্দিন তার গলা চেপে ধরেন এবং মিনহাজ তার চুল ধরে শ্লীলতাহানি করেন।
গৃহবধূর চিৎকার শুনে তার ছেলে মাহবুব আলম এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে মারধর করে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা লুট করা মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা আহত মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শামীমা বেগম বলেন, “সন্ত্রাসীদের হামলায় আমরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। আমার ও আমার ছেলের জীবন এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
তিনি আরও জানান, চিকিৎসা গ্রহণ এবং আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শের কারণে থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার এসআই মো. ফারুকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
১১১ বার পড়া হয়েছে