উন্মুক্ত মঞ্চে নির্বাচনী বিতর্ক
সময়োপযোগী রাজনৈতিক সংস্কৃতির সম্ভাবনা
শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:০৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরেই মুখোমুখি নীতিগত বিতর্কের একটি অভাব অনুভূত হয়ে আসছে। এখানে নির্বাচনী সময় এলেই শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়, কিন্তু জনগণের সামনে নীতি, পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা নিয়ে সরাসরি কোনো আলোচনার সুযোগ তৈরি হয় না।
এমন বাস্তবতায় উন্মুক্ত মঞ্চে নির্বাচনী বিতর্ক আয়োজনের প্রস্তাব নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতেই পারে।
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উন্মুক্ত নির্বাচনী বিতর্কে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এই আহ্বান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ধরনের সংস্কৃতির সূচনা ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
কারণ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নেতৃত্বের যোগ্যতা নির্ধারণে নীতি, আদর্শ ও পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি জনগণের সামনে আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
যদি এমন বিতর্ক বাস্তবায়িত হয়, তাহলে দুই পক্ষের নেতা তাঁদের নিজ নিজ ইশতেহার জনগণের সামনে উপস্থাপন করার সুযোগ পাবেন।
এতে ভোটাররা শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য বা প্রচারণার ওপর নির্ভর না করে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, উন্নয়ন ভাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গি যাচাই করার সুযোগ পাবেন।
ফলে নির্বাচনী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হতে পারে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রায়শই দলীয় বিরোধ সংঘাতমুখী অবস্থায় পৌঁছায়, যা গণতান্ত্রিক চর্চাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে উন্মুক্ত বিতর্কের মতো উদ্যোগ রাজনীতিকে শালীন, যুক্তিনির্ভর এবং সহনশীল ধারায় ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।
একই সঙ্গে এটি গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার আরও ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণের সুযোগ করে দিতে পারে। তবে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
আর শুধুমাত্র আহ্বান নয়, বরং সব পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণই এই উদ্যোগকে কার্যকর করে তুলতে পারে।
আসলে গণতন্ত্রের শক্তি নির্ভর করে জনগণের মতামতকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তার ওপর, আর উন্মুক্ত বিতর্ক সেই প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, উন্মুক্ত মঞ্চে নির্বাচনী বিতর্ক বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের গণতান্ত্রিক চর্চায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এ ক্ষেত্রে জামায়াত আমিরের আহ্বানকে স্বাগত জানানো উচিত—না কি অনুচিত?
লেখক: সাংবাদিক
১২৩ বার পড়া হয়েছে