রয়টার্সকে তারেক রহমান
জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের পরিকল্পনা নেই
শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:৩২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে সরকার গঠনের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের কোনো পরিকল্পনা বিএনপির নেই।
শুক্রবার নিজের দলীয় কার্যালয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করা হলে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়বে। তিনি বলেন, “আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?”
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকা দলটি সাম্প্রতিক সময়ে পুনরায় সক্রিয় হয়েছে এবং দেশকে স্থিতিশীল রাখতে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে। তবে সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, জামায়াত যদি বিরোধী দলে থাকে, তাহলে তিনি তাদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা প্রত্যাশা করবেন।
প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি দেশে ফেরেন। শেখ হাসিনা ছিলেন তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী।
তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ৩০০ আসনের সংসদে দুই–তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পাওয়ার বিষয়ে বিএনপি আশাবাদী। এবারের নির্বাচনে বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে লড়ছে তাদের জোট শরিকরা। তবে কতটি আসনে দলটি জয় পেতে পারে—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করতে রাজি হননি তারেক রহমান। তিনি শুধু বলেন, “সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন আমরা পাব—এই আত্মবিশ্বাস আমাদের আছে।”
বিভিন্ন জনমত জরিপে বিএনপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিললেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জের কথাও উঠে এসেছে। তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জেন–জির দল এনসিপিও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটে যুক্ত হয়েছে।
এদিকে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকার একটি আদালত বিক্ষোভ দমনে ভূমিকার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। একই সঙ্গে এটি চীনের জন্য বাংলাদেশে প্রভাব ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে।
ভবিষ্যতে পররাষ্ট্রনীতিতে ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ১৭ কোটির বেশি মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম এমন অংশীদারদের সঙ্গেই সম্পর্ক গড়তে চান তিনি। তাঁর ভাষায়, “যে দেশ বা পক্ষ বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমরা বন্ধুত্ব রাখব।”
শেখ হাসিনার সন্তানেরা ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, জনগণ গ্রহণ করলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।
উল্লেখ্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। দলটির বহু জ্যেষ্ঠ নেতা ও শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যরা তাঁর পতনের আগে ও পরে বিদেশে চলে গেছেন।
১২৮ বার পড়া হয়েছে