সর্বশেষ

জাতীয়১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ব্যালেটের মাধ্যমে জনগণ জবাব দেবে : তারেক রহমান
দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাদের বৈঠক
শেখ হাসিনার দপ্তর ও গণভবনের খাবারের বিল বাকি আড়াই কোটি
সারাদেশ২২ বছর পর খুলনায় আসছেন তারেক রহমান
হাতিয়ায় নির্বাচনী পথসভায় হান্নান মাসউদের ওপর হামলা, আহত ৩
নারায়ণগঞ্জে বিএনপি জোট প্রার্থীর প্রতিনিধিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
ধানের শীষে ভোট দিলে শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে: সালাহউদ্দিন
রূপগঞ্জে দলীয় কর্মসূচি নিয়ে সংঘর্ষে সেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিহত
বাংলাদেশ হবে কোরআনের দেশ : মুজিবুর রহমান
ভোলাহাটে আচরণবিধি লঙ্ঘন : সরকারি কর্মচারীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা
সুন্দরপুরে বুলবুলের জনসভায় ২০ নেতার জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন আহত
হিন্দু-মুসলমানের বিভাজন দেশের ক্ষতি করে : ঠাকুরগাঁওয়ে ফখরুল
বিএনপির নিশ্চিত বিজয় ঠেকাতে ষড়যন্ত্র চলছে: দুলু
শাহজাহানপুরে ধানের শীষের নির্বাচনী জনসভা: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান
শৈলকুপায় বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানের নির্বাচনী পথসভা অনুষ্ঠিত
টাঙ্গাইলে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর কোনো বিকল্প নেই: আব্দুস সালাম পিন্টু
হিলিতে বরেন্দ্র এক্সপ্রেসের বগি বিচ্ছিন্ন, ৩ ঘণ্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকার পর স্বাভাবিক
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভা
২১ বছর পর টাঙ্গাইলে যাচ্ছেন তারেক রহমান, ব্যাপক প্রস্তুতি
শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যা: বিএনপি প্রার্থীসহ আসামি ৭৩১
১ মাস পর উৎপাদনে ফিরল পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট
মুন্সীগঞ্জে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী ও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ
মুন্সীগঞ্জে অটোরিকশা ছিনতাই ও হত্যার ঘটনায় তিনজন গ্রেপ্তার
কলাপাড়ায় স্ত্রীর সঙ্গে অভিমানজনিত কারণে যুবকের আত্মহত্যা
নওগাঁর মহাদেবপুরে ডাম্প ট্রাকের চাপায় ৫ আদিবাসী কৃষকের মৃত্যু
ধামরাইয়ে সুদের টাকার চাপে যুবকের আত্মহত্যা
সাতক্ষীরায় টমেটো ক্ষেতে বিদ্যুতের ফাঁদে দুইজনের মৃত্যু
মুজিবনগরে বিএনপির নির্বাচনী অফিসের পাশে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‍্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার
কলাপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাবা-ছেলের মৃত্যু
টাঙ্গাইলে শাহীন ইসলামিক স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
গোপালগঞ্জে আনসার ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পে ককটেল বিস্ফোরণ
কুড়িগ্রামে র‍্যাবের বিশেষ অভিযানে ধরা পড়ল ১৫ কেজি গাঁজা
আন্তর্জাতিকইরানে শাসন পরিবর্তনে ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে’ হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের
মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ অবৈধ অভিবাসী আটক
খেলাসাকিবকে পাকিস্তান সিরিজে খেলাতে চায় বিসিবি
জাতীয়

উৎসব আয়োজনে বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স কল্যাণ ফোরাম ঢাকার বার্ষিক সাধারণ সভা ও বনভোজন

রনজক রিজভী
রনজক রিজভী

শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:৪৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বর্ণিল আয়োজন, মিলনমেলা আর সাংস্কৃতিক উচ্ছ্বাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স কল্যাণ ফোরাম ঢাকার বার্ষিক সাধারণ সভা ও বনভোজন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর অদূরে গাজীপুরের মনোরম এরিস্টোক্র্যাট রিসোর্টে “সবাই মিলে ফোরাম করি—চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়ার উন্নয়ন করি” প্রতিপাদ্যে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন যুগ্ম অর্থসচিব মহঃ মনিরুজ্জামান। এরপর ফোরামের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন মহাসচিব ও সাবেক মহাপরিচালক (গ্রেড-১), ডিএলআরএস (পিআরএল) মহঃ মনিরুজ্জামান। আর্থিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন অর্থ সম্পাদক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইআরডি’র যুগ্মসচিব মো. রুহুল আমীন।

আলোচনা পর্বে সভাপতির বক্তব্যে ফোরামের সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সিনিয়র সচিব (পিআরএল) ড. খ. ম. কবিরুল ইসলাম বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চলের উন্নয়ন অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমি দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করতে চাই। এর মধ্যে একটি ছিল নদী খনন প্রকল্প। প্রকল্পটি প্রথমে আটকে গিয়েছিল। পরিকল্পনা উপদেষ্টা মত দিয়েছিলেন—এখন যেহেতু অল্প কিছুদিন বাকি, তাই আপাতত এটি না করাই ভালো। আরও একটি উদ্বেগ ছিল—প্রকল্পটি অনুমোদন দিলে নির্বাচন কমিশন কোনো দ্বিমত পোষণ করতে পারে কি না, কিংবা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর কোনো প্রভাব পড়তে পারে কি না। তখন আমি তাকে যুক্তি দিয়ে বুঝাই যে, এই প্রকল্প কোনোভাবেই নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না। যারা নির্বাচন করে, তারা নদী খনন বা দখলের জন্য নয়—এই প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে জনসাধারণের স্বার্থে। পরবর্তীতে তিনি অনুমোদন দেন এবং প্রকল্পটি পাস হয়।

আরেকটি প্রকল্প, যা এখনো অধনির্মিত—জেকের প্রকল্প—সেটিও অনুমোদিত হয়েছে। এটি একনেকে পাস হয়েছে এবং প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হিসেবে অনুমোদন পেয়েছে।

তবে একটি বড় প্রকল্প আমরা অনুমোদন করাতে পারিনি—লসের কারণে—সেটি হলো পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প। এই প্রকল্পের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। এটি মোট পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, যার মধ্যে প্রথম ধাপে ৩৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারিত ছিল। গত রোববার একনেক সভায় এটি উত্থাপন করতে পারিনি। পরে আমি কেবিনেট সেক্রেটারি স্যারের কাছে গিয়ে বিষয়টি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরি। তিনি আন্তরিকভাবে এবং বিশেষভাবে চেষ্টা করেন। গত রোববারের সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হয় এবং নীতিগতভাবে সবাই সম্মতি দিলেও বলা হয়েছে—যদি আরেকটি একনেক সভা হয়, যার সম্ভাবনা খুব কম, তাহলে অনুমোদন হবে; অন্যথায় পরবর্তী সরকারের সময় এটি হবে। এই প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে তিনি আমাকে অনেক সহায়তা করেছেন।

এছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের একজন কর্মকর্তা, যিনি আমাদের নিচতলায় থাকেন—তিনি কুষ্টিয়ার না হয়েও অনেক সহায়তা করেছেন।

ড. খ. ম. কবিরুল ইসলাম আরো বলেন, গড়াই নদীর ওপর একটি ব্রিজ হওয়ার কথা ছিল, যা আইয়ুব ভাইদের এবং তাদের এলাকার কাছাকাছি। এখানে উপস্থিত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতান মাহমুদ বান্না আমাকে বলেছিলেন—প্রকল্পটি বাতিল হয়ে গেছে। তখন আমি বিষয়টি উত্থাপন করি। পরে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দিয়ে পাঠানো হলেও পরিকল্পনা কমিশন আবার বাতিল করে দেয়। এরপর আমি সেখানে কড়া অবস্থান গ্রহণ করি এবং জানাই—আমি একজন জয়েন্ট সেক্রেটারি, এবং আলহামদুলিল্লাহ, শেষ পর্যন্ত এটি পাস হয়েছে—আপনারা সবাই জানেন।

আরেকটি ব্রিজ প্রকল্পের কথাও বলা হয়েছে—যেটি আমাদের শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা তত্ত্বাবধান করছেন। সেই প্রকল্পটিও অগ্রগতি পর্যায়ে রয়েছে এবং ঘোড়াঘাট এলাকায় এটি বাস্তবায়িত হবে।

বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় রাস্তা উন্নয়ন প্রকল্পটিও একসময় আটকে গিয়েছিল। এই প্রকল্পের পিডি কামরুজ্জামানের বাড়ি কুষ্টিয়ায়—তিনি হয়তো এখানে উপস্থিত আছেন। প্রকল্পটি মূলত রাস্তা নির্মাণের হলেও এর মধ্যে বিদেশি প্রশিক্ষণের বিষয় যুক্ত করা হয়েছিল, যার ফলে বাজেট অনুমোদন পায়নি এবং বাতিল করা হয়। পরে আমি পরিকল্পনা মন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরে আবার হস্তক্ষেপ করি এবং শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি পাস হয়।

আমাদের আরও অনেক প্রকল্প রয়েছে। সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত না বলে আমি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে বলতে চাই। যারা এখনো কর্মরত আছো—বিশেষ করে এখানে উপস্থিত আমাদের জুনিয়র কর্মকর্তারা—তোমাদের উদ্দেশ্যে বলবো, চেষ্টা করলে সবই সম্ভব। যেমন আমি এনামের উদাহরণ দিয়েছি—সে নিরলসভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং অনেক সাফল্য অর্জিত হচ্ছে, যা আমাদের সবার জন্য ইতিবাচক।

সুতরাং, সবার প্রতি আমার অনুরোধ—যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, তা কাজে লাগাও। আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলে সফলতা অবশ্যই আসবে। এই কথাটিই আমি বলতে চাই।

সাবেক এই সিনিয়র সচিব বলেন, আমি শুধু ইতোমধ্যে সম্পন্ন কাজের কথাই বলতে চাই না—আমাদের সামনে আরও যেসব পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলোর কথাও আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। প্রথমেই আবাসন প্রকল্পের প্রসঙ্গে বলি। বসিলায় আমাদের যে আবাসন প্রকল্পটি রয়েছে, সেটি অনেক আগে প্রথম কমিটির উদ্যোগে গৃহীত হয়েছিল। মাঝখানে এ প্রকল্পে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। এর পাশেই আরেকটি ছোট প্রকল্পও নেওয়া হয়েছিল, সেটিও অনেকদিন আগের। এখন আমরা নতুনভাবে আরেকটি আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করতে আগ্রহী। তবে তার আগে আমরা আমাদের সদস্যদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণের মাত্রা যাচাই করতে চাই। যদি আমরা পর্যাপ্ত আগ্রহ পাই, তাহলে উপযুক্ত জায়গা অনুসন্ধান করে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেব।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা হলো—যদিও কুষ্টিয়ায় আমাদের ফোরামের অফিস বর্তমানে ভাড়া করা স্থানে পরিচালিত হচ্ছে, আমরা ফোরামের জন্য একটি নিজস্ব অফিস ভবন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এ লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার শিল্পপতিদের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন, এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করব।

কুষ্টিয়া শহরের কিছু মৌলিক সমস্যা রয়েছে, যেগুলোর দিকে আমাদের দৃষ্টি দেওয়া জরুরি। তার মধ্যে অন্যতম হলো পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অত্যন্ত ধীরগতির। বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যায়—যারা কুষ্টিয়ায় যান, তারা বিষয়টি ভালোভাবেই জানেন। পৌরসভা বা স্থানীয় সরকার এ বিষয়ে কতটুকু ভাবছেন তা আমার জানা নেই, তবে আমি নিজে বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছি এবং কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছি।

আরও একটি বড় সমস্যা হলো—শহরের সমস্ত নোংরা পানি একটি খালের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে কালিগঙ্গা নদীতে গিয়ে পড়ে, যা আমার বাড়ির পাশ দিয়েই প্রবাহিত। আমার বিশ্বাস, খুব সহজেই খালের দুই পাশের যেকোনো এক পাশে একটি পানি পরিশোধনাগার স্থাপন করা সম্ভব। এ বিষয়ে আমি ইতোমধ্যে ডেপুটি কমিশনার, পৌরসভা, এলজিইডি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমাদের লক্ষ্য হবে—শহরের বর্জ্য পানি যাতে পরিশোধনের মাধ্যমে নদীতে নিষ্কাশিত হয়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

ড. খ. ম. কবিরুল ইসলাম আরো বলেন, ভবিষ্যতে কুষ্টিয়া শহরের সম্প্রসারণ কোন দিকে হবে, সেটি নিয়েও আমাদের এখন থেকেই ভাবা প্রয়োজন। শহরের পূর্ব পাশে কালিগঙ্গা নদী, উত্তরে কুমারখালী উপজেলা ও গড়াই নদী, পশ্চিমে ভেড়ামারা—এদিকে জায়গার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বটতলী দিকেও কতটুকু সম্প্রসারণ সম্ভব, তা নিশ্চিত নয়। এ অবস্থায় খালের দক্ষিণ পাশের এলাকায় উন্নয়ন সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সেটি আমরা বিবেচনা করছি এবং এ বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া দরকার।

অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও কিছু কাজ এগিয়ে চলছে। কুষ্টিয়া–মেহেরপুর সড়ক ইতোমধ্যে প্রশস্ত হয়েছে—আলহামদুলিল্লাহ। তবে কুষ্টিয়া–চুয়াডাঙ্গা সড়কটি এখনো খুব সরু। এটিকে প্রশস্ত করার জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছি এবং একটি ভিজিবিলিটি স্টাডি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই ভিজিবিলিটি প্রকল্প সম্পন্ন হলে সড়ক প্রশস্তকরণের মূল প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

চুয়াডাঙ্গায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। সরাসরি আবেদন করার পরিবর্তে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে এ দাবি উত্থাপন করলে তা অধিক কার্যকর হয়—কারণ প্রতিবছর জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে এসব প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গ্রহণ করে এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ হয়। এ লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠিয়েছি।

আপনাদের কাছে যদি আরও বড় কোনো পরিকল্পনা বা উন্নয়ন প্রস্তাব থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে আমাদের ফোরামকে জানান। ফোরামে আসুন, অংশগ্রহণ করুন। আপনারা জানেন, আমরা জুলাই বা আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমদিকে প্রতি সপ্তাহে অফিসে বৈঠক করেছি। বর্তমানে আমরা প্রতি দুই সপ্তাহে, অর্থাৎ অল্টারনেটিভ পদ্ধতিতে বৈঠক করছি। সন্ধ্যাকালীন এসব বৈঠকে আপনারা এসে আপনাদের প্রস্তাবনা আমাদের জানাবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, বক্তব্যের শেষাংশে একটি কথা পুনর্ব্যক্ত করতে চাই। বর্তমান কমিটির দায়িত্ব গ্রহণের সময়ে আমি ঘোষণা করেছিলাম—ফোরাম হবে সবার জন্য উন্মুক্ত। নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটি চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলার অফিসারদের জন্য নির্ভরতার একটি কেন্দ্র হয়ে উঠবে। অফিসারদের পারস্পরিক যোগাযোগ, তাদের নানামুখী কল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চল তথা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন লক্ষ্যে এটি একটি প্রাণবন্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। আমরা আমাদের এই লক্ষ্য পূরণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব—ইনশাল্লাহ।

সিনিয়র সচিব (পিআরএল) ড. খ. ম. কবিরুল ইসলাম বলেন, আজ আমাদের এই আয়োজনকে আমরা সবার প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে পেরেছি—এটা দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এখানে আজ আমাদের অনেক প্রবীণ ও পূর্বে দায়িত্বে থাকা সদস্যদের উপস্থিতি আমরা লক্ষ্য করছি। এটি প্রমাণ করে যে আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি।

আমাদের কল্যাণমূলক কার্যক্রমের বিষয়ে আমি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছি। এই কল্যাণ শুধু অফিসারদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়—আপনারা জানেন, কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন রোগীর চিকিৎসা সহায়তার জন্য আমরা কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। অনেকের বদলির বিষয়ে আমরা কাজ করেছি, বাসা পাওয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি এবং অফিসারদের পদোন্নতির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করেছি। আমরা শতভাগ সফল নই—এটা বাস্তবতা, এবং ভবিষ্যতেও হয়তো শতভাগ সফল হওয়া সম্ভব হবে না। তবে আমরা নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং যাব।

আপনাদের সকলকে অনুরোধ জানাচ্ছি, আজকের দিনটি এখানে কাটান। আশা করি আপনারা উপভোগ করবেন। আমাদের প্রিয় মালিক ভাইয়ের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই। তিনি আমাদেরই একজন, আমাদেরই ভাই। অন্য কারো জন্য তিনি আজকের দিনে এই স্থান ভাড়া দেননি। যদিও গতকাল এখানে তিন-চারটি অনুষ্ঠান ছিল, তবুও আজকের দিনটি তিনি শুধুমাত্র আমাদের জন্য সংরক্ষণ করেছেন—এ জন্য তাঁকে বিশেষ ধন্যবাদ।

আমাদের আয়োজনে ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। যদি আপনারা পরামর্শ দেন, তাহলে আমরা ভবিষ্যতে আরও সচেতন হতে পারব। আমরা যেমন আমাদের ফোরামের মিটিংগুলোতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করি, তেমনি যার যতটুকু সুযোগ আছে, এলাকার উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয় হব—এই প্রত্যাশা রাখি।

ড. খ. ম. কবিরুল ইসলাম বলেন, একজন প্রস্তাব দিয়েছেন কুষ্টিয়া শহরের রেললাইন শহরের বাইরে স্থানান্তরের বিষয়ে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তবে এখনো আমরা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উপস্থাপন করিনি। তবে আমরা দুটি বিষয়ে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছি। কুষ্টিয়া রেলস্টেশনে দুটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, যেখানে ট্রেনে ওঠানামার স্থান অনেক নিচু—ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। আমি নিজে রেল সচিবের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি উত্থাপন করেছি। এটি গুরুত্বসহকারে নেওয়া হয়েছে এবং প্ল্যাটফর্ম উঁচু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এছাড়াও বর্তমানে বড় ফ্রেম থাকলেও প্ল্যাটফর্ম তুলনামূলক ছোট—দুই পাশ থেকেই যাত্রীদের কষ্ট করে ওঠানামা করতে হয়। এই বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। আশা করছি, এ সমস্যারও সমাধান হবে।

রেললাইন স্থানান্তরের বিষয়টি একটি বড় প্রকল্প। আমরা এ বিষয়ে অবশ্যই কথা বলব। তবে এখন নির্বাচনকালীন সময় চলছে, তাই নির্বাচনের পর বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করা হবে। কারো পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব থাকলে সেটিও আমরা বিবেচনায় নেব—ইনশাআল্লাহ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ও অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব ড. খন্দকার রাশেদুল হক, প্রাক্তন মহাসচিব ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ মঈন উদ্দিন আহম্মেদ, সহসভাপতি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক কর কমিশনার সনজিত কুমার বিশ্বাস এবং জুলাই’২৪-এর শহীদ ইয়ামিনের বাবা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

দিনব্যাপী বনভোজন ও ক্রীড়া আয়োজন পরিচালনা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক (পিআরএল) মো. আবুল হোসেন এবং ক্রীড়া সম্পাদক খন্দকার আব্দুর রউফ। খাবার ব্যবস্থাপনার তত্ত্বাবধানে ছিলেন সনজিত কুমার বিশ্বাস ও স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপপরিচালক মোঃ তৌহিদুজ্জামান।

এই মিলনমেলায় অংশ নেয় চুয়াডাঙ্গা জেলা সমিতি, মেহেরপুর জেলা সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র কল্যাণ সমিতি এবং কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরাম ঢাকা—যা পুরো আয়োজনকে রূপ দেয় বৃহত্তর কুষ্টিয়ার এক প্রাণবন্ত সম্মিলনে। এছাড়া এই আয়োজনে বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স কল্যাণ ফোরাম ঢাকার বিগত কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক ও ফোরামের স্মরণিকা প্রকাশনা কমিটির সদস্য সচিব নাজমুল হুদা।

সাংস্কৃতিক পর্বটি ছিল পুরো আয়োজনের প্রাণকেন্দ্র—রঙ, সুর আর উচ্ছ্বাসে ভরা এক প্রাণবন্ত মঞ্চ। বিকেল গড়াতেই রিসোর্ট প্রাঙ্গণ রূপ নেয় এক খোলা আকাশের সঙ্গীতাঙ্গনে। মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জা ও দর্শকদের করতালিতে মুখর পরিবেশে মঞ্চে আসেন দেশের স্বনামধন্য কণ্ঠশিল্পী মাসুদ কোরাইশী। তাঁর একের পর এক জনপ্রিয় গান উপস্থিত অতিথিদের আবেগে ভাসিয়ে তোলে। কখনো নস্টালজিক সুরে, কখনো প্রাণচঞ্চল তালে তিনি পুরো আয়োজনকে উৎসবের চূড়ায় পৌঁছে দেন। দর্শক-শ্রোতারা শুধু গান শোনেননি—গানে গানে, তালে তালে অংশ নিয়েছেন এক সম্মিলিত আনন্দোৎসবে।

চমক হিসেবে মঞ্চে গান পরিবেশন করেন কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকার মহাসচিব ও দুদকের পরিচালক (পিআরএল) মো. আবুল হোসেন—যা উপস্থিত সবার জন্য ছিল আনন্দদায়ক এক ভিন্ন মাত্রা। তাঁর পরিবেশনা দর্শকদের উষ্ণ প্রশংসা কুড়ায়। পাশাপাশি একে একে মঞ্চে উঠে আসেন মিতা বিশ্বাস, প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন, সাঈদ, রিফা তানিয়া উর্বিতা, মো. আলতাফ হোসেন, মিশো, সঞ্চয়, ড. জহির ও তাঁর ছেলে—প্রতিটি পরিবেশনাই যোগ করে ভিন্ন স্বাদের সুরের রঙ।

পুরো সাংস্কৃতিক আয়োজনটি ছিল পারিবারিক সম্প্রীতি, বন্ধুত্ব আর আঞ্চলিক গর্বের এক সুরেলা প্রকাশ। দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, গানে গলা মেলানো, হাসি-উচ্ছ্বাস আর নাচের ছন্দে মঞ্চ ও দর্শকসারি একাকার হয়ে যায়। মুহূর্তগুলো যেন শুধু বিনোদন নয়—স্মৃতি হয়ে থাকার মতো এক আবেগঘন মিলনমেলা।

মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স কল্যাণ ফোরামের উপদেষ্টা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অবসরপ্রাপ্ত উপসচিব ড. শাহ আলম চুননু এবং মঞ্চে গানের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুগ্ম গণসংযোগ সম্পাদক, ঢাকা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন।

চমকপ্রদ উপস্থাপনায় হাউজি খেলা পরিচালনা করেন, বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স কল্যাণ ফোরাম ঢাকার সহসভাপতি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক কর কমিশনার সনজিত কুমার বিশ্বাস। সবশেষে বিশেষ আকর্ষন র‌্যাফেল বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

উৎসবমুখর পরিবেশে সম্প্রীতি, উন্নয়ন ভাবনা ও সাংস্কৃতিক বন্ধনে দিনভর প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে বৃহত্তর কুষ্টিয়া পরিবারের এই মিলনোৎসব।

১৫৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন