খেলতে আসায় ডাকসু নেতার শাস্তি: কিশোর–তরুণদের 'কানে ধরিয়ে উঠবস'
সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ৪:২৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে আসা কয়েকজন কিশোর ও তরুণকে কানে ধরিয়ে উঠবস করানোর ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমার ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ সময় ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
রোববার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠের দক্ষিণ–পূর্ব কোণায় প্রায় ৩০ জন কিশোর ও তরুণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে কান ধরে উঠবস করছেন। তাঁদের সামনে একটি লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন সর্বমিত্র চাকমা। ভিডিওটি গত ৬ জানুয়ারির বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইসমাইল নাহিদ তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ডাকসুর একজন সদস্য লাঠি হাতে শিশু–কিশোরদের ভয় দেখিয়ে শাস্তি দিচ্ছেন, যা অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়।
এ ছাড়া মাস্টারদা সূর্য সেন হল ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. আবিদুর রহমান (মিশু) ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাজ ডাকসু সদস্যরা নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছেন, যা ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল। তাঁর মতে, কোনো অনিয়ম বা অপরাধ হলে তার বিচার করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের, কোনো ছাত্রনেতার নয়।
তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন সর্বমিত্র চাকমা। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিতভাবে বহিরাগতদের কারণে শিক্ষার্থীদের মোবাইল, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছে। গত বছরের ১৪ অক্টোবর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সাইকেল হারানোর ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি লেখেন, বারবার নিষেধ করার পরও বহিরাগতরা মাঠে আসে, স্টাফদের ওপর ঢিল ছোড়ে এবং দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রশাসনের কাছে দেয়াল সংস্কারের আবেদন জানালেও বাজেটের অজুহাতে কাজ এগোয় না। প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি বাধ্য হয়ে এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রথম আলোকে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরও আছে। বারবার নিষেধ করার পরও যখন বহিরাগতরা কথা শোনে না এবং ইটপাটকেল ছোড়ে, তখন আমাকে কিছু ব্যবস্থা নিতেই হয়।”
অন্যদিকে, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান জানতে প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদের সঙ্গে মুঠফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘিরে শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা রক্ষা, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ এবং ছাত্রনেতাদের ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
১৫২ বার পড়া হয়েছে