চাঁপাইনবাবগঞ্জে চায়না কমলা চাষে কৃষকেরা নতুন সম্ভাবনার পথে
শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যা দীর্ঘদিন ধরে ‘আমের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত, এবার নতুন সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছে।
আমের পাশাপাশি জেলার কৃষকরা এখন বিদেশি ফল চায়না কমলা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। এতে বিদেশি কমলার ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হচ্ছে এবং কৃষকের আয়ও বাড়ছে।
রানিহাটি ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুরহাট গ্রামে সফলভাবে চায়না কমলা চাষ করছেন কৃষক সায়েম আলী। আমের ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়ার পর ২০২২ সালে তিনি বিকল্প হিসেবে কমলা চাষ শুরু করেন। মাত্র দুই বছরের মধ্যে সায়েম আলী তাঁর বিনিয়োগের খরচ পুরোপুরি উঠিয়ে ফেলেছেন। চলতি মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে চায়না কমলা চাষ করে তিনি প্রায় ৮ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন।
সায়েম আলী জানান, 'কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পরিচর্যা এবং আধুনিক চাষপদ্ধতি অনুসরণ করায় ভালো ফলন পেয়েছি। প্রথম বছরেই বিনিয়োগের খরচ উঠিয়ে ফেলতে পেরেছি।'
তার বাগানটি দেখতে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক, উদ্যোক্তা ও আগ্রহী মানুষ ভিড় করছেন। তারা কমলার গাছ, পরিচর্যা পদ্ধতি এবং ফলন দেখে ব্যবসায়িক ধারনা নিচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক সালাম আলী বলেন, 'আগে ভাবতাম কমলা শুধু পাহাড়ি এলাকায় হয়। এখানে এত ভালো স্বাদ, ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করলে বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে।'
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটি ও জলবায়ু চায়না কমলা চাষের জন্য উপযুক্ত। পরিকল্পিতভাবে চাষ সম্প্রসারণ করলে জেলায় বিদেশি ফল উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. সুনাইন বিন জামান বলেন, 'এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া চায়না কমলার জন্য অত্যন্ত অনুকূল। কৃষকরা আগ্রহী হলে আমরা প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি।'
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) আমির আব্দুল্লাহ মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, 'স্বাদ ও বাজারমূল্য ভালো হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে চায়না কমলার চাষ দিন দিন বাড়ছে। এটি কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশি কমলা আমদানিও কমাতে সহায়ক হবে।'
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলায় প্রায় ১৬৫ হেক্টর জমিতে চায়না কমলা চাষ হচ্ছে। আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই জেলায় বিদেশি ফল চাষ নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
১১৭ বার পড়া হয়েছে