মাদারীপুরে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তায় তৎপর প্রশাসন
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫:৪৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাদারীপুর জেলার অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন।
জেলার মোট ৩৮১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ব্যালট পরিবহন, শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা ও ব্যালট পেপার নিরাপদে কেন্দ্রে ফেরত আনার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র্যাব, নৌ-পুলিশ ও আনসার বাহিনী যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই জেলার প্রতিটি এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি ও ভোটারদের নিরাপত্তা তদারকির জন্য জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রতিটিতে দুইজন করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৩৮১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৫টি ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’, ১৭৪টি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ১৭২টি ‘সাধারণ’ হিসেবে চিহ্নিত। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যায় কালকিনি উপজেলা শীর্ষে রয়েছে। সেখানে মোট ৬২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, এর মধ্যে ১৬টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। মাদারীপুর সদর উপজেলায় ৫৮টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে ৭টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। রাজৈরে ৩৫টির মধ্যে ৫টি, ডাসারে ১৪টির মধ্যে ২টি এবং শিবচরে ৪০টির মধ্যে ৫টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার বাহিনী মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষণিক কাজ করবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসককে সভাপতি এবং ডিডি এলজিকে সদস্য সচিব করে ২৭ সদস্যের একটি অবজারভেশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের জন্য পৃথক তিনটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
পুলিশ প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বেশি। পুলিশ ২২৪টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে কিছু কেন্দ্র বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সেগুলোর নিরাপত্তায় নৌ-পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। নৌপথে চলাচলকারী এসব কেন্দ্রে জেলা পুলিশ ও নৌ-পুলিশ যৌথভাবে স্পিডবোট ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে টহল দেবে।
বর্তমানে জেলায় পুলিশের সদস্য সংখ্যা প্রায় এক হাজার। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত এক হাজার পুলিশ সদস্য চেয়ে আবেদন করেছে জেলা পুলিশ। নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দুইজন এবং সাধারণ কেন্দ্রে একজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশের সঙ্গে সাতজন করে আনসার সদস্য থাকবে। পাশাপাশি থাকবে পর্যাপ্ত মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, নির্বাচনী নিরাপত্তা বিষয়ে জেলার সব পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নির্বাচনের অধিকাংশ প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজগুলোও সময়মতো শেষ করা হবে। সবার সহযোগিতায় মাদারীপুরে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে জেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
১১২ বার পড়া হয়েছে