কুড়িগ্রামে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামেও মিলছে না সিলিন্ডার
বৃহস্পতিবার , ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ৯:০৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে কুড়িগ্রাম জেলায় প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ হোটেল, বাসা-বাড়ি ও পরিবহনে এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করছেন।
দীর্ঘদিন ধরেই রান্নার কাজে কুড়িগ্রামবাসীর প্রধান ভরসা সিলিন্ডার গ্যাস। তবে গত এক থেকে দুই সপ্তাহ ধরে জেলায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। বাড়তি দাম দিয়েও নির্ধারিত সময়ে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা।
সরকার নির্ধারিত এলপিজি গ্যাসের দাম এক হাজার ৩ শত ৬ টাকা হলেও ডিলার পয়েন্ট থেকে সিলিন্ডার কিনতে অতিরিক্ত ৩ শত থেকে ৫ শত টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।
কুড়িগ্রাম সদরের এিমোহনী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ রানা জানান, গত কয়েক দিন ধরে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, 'গ্যাস কিনতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিন্তু না কিনেও তো উপায় নেই, রান্না করবে কী দিয়ে?'
একই ধরনের অভিযোগ করেন কুড়িগ্রাম পৌরসভার স্থানীয় বাসিন্দা রতন চন্দ্র। তিনি বলেন, 'শহরে বসবাস করলেও বর্তমানে গ্যাস সংকটে পরিবারের রান্না করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় টাকা দিয়েও গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।'
এ সংকটের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও। কুড়িগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্র শাপলা চত্বরে অবস্থিত জান্নাত হোটেলের মালিক মুন্না জানান, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, 'গ্যাসের দাম বাড়লেও সেই তুলনায় খাবারের দাম বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বর্তমানে ব্যবসা করতে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।'
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও যমুনা গ্যাসের ডিলার বদরুল আহসান মামুন বলেন, চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, ক্রয়মূল্যের সাথে পরিবহন খরচ ও স্বাভাবিক কিছু মুনাফা যোগ করেই সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে। যার ফলে আগের তুলনায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে গ্যাস সংকটকে পুঁজি করে অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রি বন্ধে মাঠে নেমেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। কুড়িগ্রাম ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শেখ সাদী জানান, প্রতিদিন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, 'যেসব ব্যবসায়ী বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।'
এলপিজি গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা।
১৪০ বার পড়া হয়েছে