মানিকগঞ্জ হাসপাতালে নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে নারী ধর্ষণের অভিযোগ
মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:২৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নিরাপত্তার আশায় হাসপাতালে আশ্রয় নিতে গিয়ে ভয়াবহ ঘটনার শিকার হয়েছেন এক নারী। মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্বামীকে আটকে রেখে ওই নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বে থাকা দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে। রোববার গভীর রাতে হাসপাতালের নতুন ভবনে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী নারী হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে শাহাদাত হোসেন (৩২) এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আশুতিয়াপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আবু সাঈদ (২৬)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগীর স্বামীর ভাষ্যমতে, তিনি ও তাঁর স্ত্রী নারায়ণগঞ্জ থেকে অটোরিকশায় করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশার ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে গেলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় তারা নিকটস্থ মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে যান। ফটকে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তাদের হাসপাতালের নিচতলায় বসতে বলেন।
রাত প্রায় ৩টার দিকে ওই দুই আনসার সদস্য দম্পতির পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে নারীকে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যান। এ সময় স্বামীকে নিচতলায় আটকে রাখা হয়। পরে দীর্ঘ সময় পার হলেও স্ত্রী ফিরে না আসায় স্বামী ওপরে যেতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর নারী নিচে নেমে এসে জানান, দুই আনসার সদস্য তাকে ধর্ষণ করেছে।
ভোরের দিকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ভুক্তভোগীর স্বামী মানিকগঞ্জ সদর থানায় গিয়ে বিষয়টি জানালে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে অভিযুক্তদের আটক করে।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, “নিরাপত্তার আশায় হাসপাতালে এসেছিলাম। অথচ যাদের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, তারাই আমার সঙ্গে এমন নৃশংসতা করেছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন জানান, ভুক্তভোগীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত দুই সদস্যকে সাময়িকভাবে বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি ইকরাম হোসেন জানান, অভিযুক্তরা জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের অভিযোগ স্বীকার করেছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
১০৬ বার পড়া হয়েছে