ফরিদপুরে পরিত্যাক্ত ব্যাগ থেকে উদ্ধারকৃত বোমা ২৪ ঘণ্টা পর নিস্ক্রিয়
সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে একটি পরিত্যাক্ত ব্যাগ থেকে যৌথ বাহিনী উদ্ধারকৃত বোমা ২৪ ঘণ্টা পর শনাক্ত ও নিস্ক্রিয় করা হয়েছে।
রোববার সকাল ১০টায় শহরের গোয়ালচামট প্রতিমা বিসর্জন ঘাটে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা বিশেষ ব্যবস্থায় বোমাটি নিরাপদে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিস্ক্রিয় করেন।
বোমাটি একটি শক্তিশালী আইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) এবং রিমোট কন্ট্রোলযুক্ত ছিল। অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা জানান, এটি সাধারণ বোমার চেয়ে শক্তিশালী ও প্রাণঘাতি। দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি এড়াতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।
নিষ্ক্রিয়করণের সময় পুলিশের দশজন সদস্য অংশ নেন। তারা বিশেষ নিরাপত্তা পোশাক পরিধান করে বালুর বস্তায় ঢেকে রাখা বোমার কাছে পৌঁছে তা বুলেটপ্রুফ সরঞ্জাম দিয়ে ঢেকে রাখেন। এরপর প্রায় ১০০ মিটার দূর থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বোমাটি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের সময় প্রায় ২০ ফুট উচ্চতায় ধোঁয়া এবং প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতায় স্পিন্টার ও অন্যান্য সরঞ্জাম ছিটকে যায়। পরে বিস্ফোরিত বোমার আলমত সংগ্রহ করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল শনিবার সকাল ১০টায়। ফরিদপুর শহরের ব্যস্ততম এলাকা ও প্রধান সড়কের আলীপুর আলীমুজ্জামান সেতুর পূর্ব-দক্ষিণ প্রান্তে একটি নীল রঙের ব্যাগে বোমা রয়েছে এমন সন্দেহে সেনাবাহিনী ও পুলিশ এলাকা ঘিরে রাখে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর দুপুর ১২টায় সেনাবাহিনীর বিশেষ একজন সদস্য ব্যাগটি উদ্ধার করে প্রায় ৩০০ গজ দূরে সেতুর নিচে কুমার নদের পাড়ে বালুর বস্তায় ঢেকে রাখেন। রাতভর সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকে।
পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজালের পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ বলেন, 'বোমাটি শক্তিশালী আইডি এবং রিমোট কন্ট্রোলযুক্ত। এটি সাধারণ বোমার চেয়ে শক্তিশালী ও প্রাণঘাতি।'
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিকভাবে সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। 'যে বা যারা এটি রেখেছে, তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান চলমান রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে,' তিনি জানান।
১০৬ বার পড়া হয়েছে