কুমিল্লার ১১ আসনে কোটিপতি প্রার্থীর ছড়াছড়ি, স্বামীর চেয়েও এগিয়ে স্ত্রীরা
বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ৪:১৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুমিল্লার বিভিন্ন সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি ব্যবসায়ীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
বিএনপি, জামায়াত, এলডিপিসহ একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর অধিকাংশই পেশায় ব্যবসায়ী। শুধু তাই নয়, এসব প্রার্থীর স্ত্রীদের বড় অংশই ‘পারিবারিক কোটায়’ কাগজে-কলমে ব্যবসায়ী হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের সম্পদের পরিমাণ স্বামীর চেয়ে বেশি।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে মোট ১০৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৭৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং ৩১ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। বৈধ প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১১ আসনে অন্তত ১৬ জন প্রার্থী কোটিপতি। এদের মধ্যে মাত্র দুইজন ছাড়া বাকিদের স্ত্রীরাও কোটিপতি। আবার দুজন ছাড়া প্রায় সবাই পেশায় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ১৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। তাঁর স্ত্রী বিলকিস আক্তার হোসেনের সম্পদ দেখানো হয়েছে ১২ কোটি ৩২ লাখ টাকার বেশি। একই আসনে তাঁর ছেলে খন্দকার মারুফ হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। মারুফের সম্পদ চার কোটি টাকার বেশি এবং তাঁর স্ত্রী সানজিদা ইসলাম সাইফার ব্যবসায়ী হিসেবে এক কোটি ৬১ লাখ টাকার সম্পদের মালিক।
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আমির হোসেন ও বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া—দুজনই ব্যবসায়ী। তাঁদের সম্পদ যথাক্রমে প্রায় দুই কোটি ৩৯ লাখ ও চার কোটি সাত লাখ টাকা। তবে এ দুই প্রার্থীর স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদ দেখানো হয়নি।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এক কোটি ৬৬ লাখ টাকার সম্পদের মালিক হলেও তাঁর গৃহিণী স্ত্রীর সম্পদ এক কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি। কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর সম্পদের তুলনায় তাঁর স্ত্রী মাজেদা আহসান মুন্সীর সম্পদের পরিমাণ বেশি, যা তিন কোটি টাকারও ঊর্ধ্বে।
সবচেয়ে আলোচিত চিত্র দেখা গেছে কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমনের ঘোষিত সম্পদ ২০৪ কোটি টাকার বেশি এবং তাঁর স্ত্রী নাজনীন আহমেদের সম্পদ ১২৮ কোটি টাকারও বেশি। একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ হেলালের সম্পদ তুলনামূলকভাবে কম, প্রায় দুই কোটি টাকা, এবং তাঁর স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদ নেই।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল কালামের সম্পদ প্রায় ৪৯ কোটি টাকা, আর তাঁর স্ত্রী রহমত আরা বেগমের সম্পদ ১৪ কোটি টাকার বেশি। কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে, যেখানে অনেক প্রার্থীর স্ত্রীর সম্পদ স্বামীর চেয়ে বেশি।
চৌদ্দগ্রাম আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. কামরুল হুদা বলেন, “হলফনামায় আমি ও আমার স্ত্রীর যে সম্পদ দেখিয়েছি, তা সঠিক। যে কোনো সংস্থা চাইলে তদন্ত করতে পারে। এসব তথ্য সরকারের ওয়েবসাইটেও রয়েছে।”
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান বলেন, অতীতের মতো এবারও অনেক প্রার্থীর হলফনামায় দেওয়া সম্পদের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর মতে, ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার প্রবণতা এখন সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীদের মুখোমুখি বসে এসব বিষয় তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
৩৩৭ বার পড়া হয়েছে