যমুনার দুর্গম চরে শীতবস্ত্র ও সবজি বীজ বিতরণ করল মুনলাইট
মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:৪৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
যমুনা নদীর তীরবর্তী দুর্গম চরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জীবন সংগ্রাম সব ঋতুতেই কঠিন। শীত মৌসুম এলেই সেই কষ্ট আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল, দারিদ্র্য আর প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে এসব এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত নানা সংকটে দিন কাটান।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম দলিতার চর—যা বগুড়া শহর থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার এবং উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত—সেখানে বসবাসরত অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র ও সবজি বীজ বিতরণ করেছে মানবিক সংগঠন মুনলাইট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি।
সংগঠনের উদ্যোগে চরাঞ্চলের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে উষ্ণ কম্বল বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি স্বাবলম্বিতার লক্ষ্যে প্রত্যেক পরিবারকে শীতকালীন সবজির বীজ প্রদান করা হয়, যাতে তারা নিজস্ব চাষের মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারেন এবং অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
মুনলাইটের কর্মীরা সরাসরি চর এলাকায় গিয়ে এই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জরুরি মানবিক সহায়তার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সারিয়াকান্দির হযরত ওমর (রা.) কওমি মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝেও কম্বল বিতরণ করা হয়। শীতের রাতে পড়াশোনায় যেন ব্যাঘাত না ঘটে এবং শিক্ষার্থীরা উষ্ণ পরিবেশে থাকতে পারে—এই লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কম্বল ও সবজি বীজ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন চরবাসীরা। দলিতার চরের বাসিন্দা আবদুল মালেক বলেন, “চরে শীত খুব কষ্টের। রাতে ঠিকমতো ঘুমানো যায় না। কম্বল আর বীজ দুইটাই পেয়ে আমরা অনেক উপকার পাইছি।”
একই এলাকার গৃহবধূ হালিমা খাতুন বলেন, “আমাদের চরের মানুষের কথা খুব কমই কেউ ভাবে। এই শীতে মুনলাইট এসে পাশে দাঁড়িয়েছে—এটাই অনেক বড় পাওয়া।”
স্থানীয়রা জানান, দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের মানবিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। তারা ভবিষ্যতেও নিয়মিত সহায়তা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
মানবিকতার এই উষ্ণ ছোঁয়ায় শীতের কঠিন সময়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে যমুনা নদীর দুর্গম দলিতার চরের মানুষ ও মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীদের জীবনে।
৭৮৩ বার পড়া হয়েছে