নতুন বছরের শুরুতেই পেট্রাপোল বন্দরে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ফি আরোপ
শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:১৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই ভারত-বাংলাদেশ স্থলপথে যাতায়াতকারী পাসপোর্ট যাত্রীদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল থেকে ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক যাত্রীদের কাছ থেকে নতুন করে ‘প্যাসেঞ্জার ইউজার চার্জ’ (পিইউসি) আদায় শুরু করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
ভারত সরকারের অধীনস্থ ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এলপিএআই)-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ফি কার্যকর করা হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট (আইসিপি) পেট্রাপোল বন্দরের ম্যানেজার কামলেশ সাইনি স্বাক্ষরিত এক অফিস মেমোর মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে জানানো হয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, জিএসটি-সহ ভারতীয় ও বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে যাত্রী পরিষেবা ফি হিসেবে ২০০ রুপি আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া তৃতীয় দেশের নাগরিকদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ রুপি অথবা ৫ মার্কিন ডলার। তবে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিয়ে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ রুপি। ভারত সরকারের তালিকাভুক্ত কিছু নির্দিষ্ট সরকারি সংস্থা ও কর্তৃপক্ষকে এই চার্জ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, আধুনিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনে যাত্রীসেবা আরও উন্নত ও গতিশীল করার লক্ষ্যে এই চার্জ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে চালু করা হচ্ছে ডিজিটাল বুকিং ব্যবস্থা। যাত্রীরা মোবাইল নম্বর বা ই-মেইল আইডির মাধ্যমে ওয়েবসাইট কিংবা অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস অ্যাপে লগইন করে স্লট বুক করতে পারবেন। এছাড়াও কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশনের সুবিধা থাকছে।
তবে নতুন এই সিদ্ধান্তে যাত্রীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনের সামনে ভারতগামী যাত্রী আব্দুর রহিমসহ একাধিক যাত্রী জানান, নতুন বছরের প্রথম দিনেই অতিরিক্ত ফি আরোপে তাদের আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।
যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, এর আগে বাংলাদেশ সরকার দফায় দফায় ট্রাভেল ট্যাক্স বাড়িয়ে সর্বশেষ যাত্রীপ্রতি এক হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি পোর্ট ট্যাক্স রয়েছে ৫৬ টাকা। তার ওপর ভারত সরকার নতুন করে ২০০ রুপি ফি আরোপ করায় বিশেষ করে রোগাক্রান্ত, গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য এটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারা আরও বলেন, নতুন বছরের শুরুতে ভিসা জটিলতা নিরসন ও সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও তার পরিবর্তে নতুন করে ফি আরোপ করায় হতাশা বেড়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় ভারত-বাংলাদেশ স্থলপথে যাতায়াতকারী সব আন্তর্জাতিক যাত্রীকেই এখন বাড়তি এই খরচ বহন করতে হচ্ছে।
১২২ বার পড়া হয়েছে