সর্বশেষ

জাতীয়বাগেরহাটে মহাসড়কে ভয়াবহ সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত, আহত বহু
হট্টগোলের মধ্যে রাষ্ট্রপতির ভাষণ, প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ ও বিরোধী দলের ওয়াকআউট
আজ থেকে দেশে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথ গ্রহণ করালেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্বাচিত হলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার
কায়সার কামাল নির্বাচিত হলেন ডেপুটি স্পিকার
নতুন মন্ত্রী হলেন আহমেদ আযম খান, শপথ গ্রহণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু
সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্বের জন্য খন্দকার মোশাররফের নাম প্রস্তাব করলেন প্রধানমন্ত্রী
সারাদেশফরিদপুরে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ১৯ জন গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ আটক
সিসিক নির্বাচনে বিএনপিতে মনোনয়ন দৌড়, আলোচনায় সামসুজ্জামান জামান
সিলেটের গোলাপগঞ্জে মসজিদে ঢুকে ইমামকে মারধর, আটক ১
কলাপাড়ায় খাস জমি দখল নিয়ে হামলা, নারীর দুই হাত ভাঙার অভিযোগ
বরগুনা সদরে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
বান্দরবানে রোজাদার মানুষের জন্য জাহির’স ইংলিশ কেয়ারের ফ্রি ইফতার
উল্লাপাড়ায় শিমুল ফুলের বাগানে ট্রেনের ধাক্কায় দুই যুবকের মৃত্যু
সুনামগঞ্জে শিমুলবাগান রক্ষায় মানববন্ধন, যাদুকাটা নদীতীর কাটার প্রতিবাদ
বিসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, স্বস্তিতে নগরবাসী!
কুয়াকাটায় বিপন্ন প্রজাতির বিশাল কচ্ছপের মৃতদেহ ভেসে এল
সিরাজগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
গোপালগঞ্জে স্বস্তির বরষা, দেখা মিলল মৌসুমের প্রথম বৃষ্টির
হাকিমপুরে সাংবাদিক ও সুধীজনদের সম্মানে জামায়াতের দোয়া ও ইফতার
চাঁদপুরে মরা মুরগি ও রক্ত-চর্বি বিক্রি, ৪ প্রতিষ্ঠানকে ১৭ হাজার টাকা জরিমানা
মুকসুদপুরে পূবালী ব্যাংকে ৯৩ হাজার টাকার জাল নোটসহ ব্যক্তি আটক
ফরিদপুরে মৎস্যজীবীদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
শৈলকুপায় মসজিদ কমিটি নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫
ঝিনাইদহে বাসে অগ্নিসংযোগ মামলায় ছাত্র আন্দোলনের ২ নেতার রিমান্ড
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী–স্ত্রী নিহত
নওগাঁয় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু
আন্তর্জাতিকযুদ্ধ বন্ধে তিন শর্ত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
আল–আকসা মসজিদে ১২ দিন ধরে মুসল্লিদের ঢুকতে দিচ্ছে না ইসরায়েল, ৮ দেশের নিন্দা
খেলাচ্যাম্পিয়নস লিগ অবিশ্বাস্য ভালভের্দে ‘বিশ্বের সবচেয়ে অবমূল্যায়িত ফুটবলার’
ফিচার

গণতন্ত্র, শিক্ষা ও শিল্পায়নে খালেদা জিয়ার অবদান: একটি ঐতিহাসিক মূল্যায়ন

মনজুর এহসান চৌধুরী
মনজুর এহসান চৌধুরী

মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২:৩৪ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়ার দুই দফা শাসনকাল (১৯৯১–১৯৯৬ এবং ২০০১–২০০৬) আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন ও কাঠামোগত সংস্কারের যুগ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সময়ে তার নেতৃত্বে শিক্ষা, নারী উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার, অবকাঠামো নির্মাণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান—সব ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটে।

সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন
১৯৯১ সালে জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের পর তার সরকারের অন্যতম ঐতিহাসিক উদ্যোগ ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে আসা। দ্বাদশ সংশোধনী পাসের মধ্য দিয়ে দেশ পুনরায় সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় আত্মপ্রকাশ করে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত।

শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার
খালেদা জিয়ার সরকার শিক্ষা খাতকে জাতীয় গুরুত্বে পরিণত করে। বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রবর্তনের পাশাপাশি ছাত্রীদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু করা হয়। “শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য” প্রকল্প দরিদ্র পরিবারগুলোর শিশুদের স্কুলমুখী করে তোলে। প্রথমবারের মতো শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দও আসে এই সময়ে।
নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা
নারীর অধিকার ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে সরকার গঠনমূলক নীতি গ্রহণ করে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে শক্তিশালী করা, সরকারি চাকরিতে ১০ শতাংশ নারী কোটা চালু এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন প্রণয়ন তারই প্রতিফলন। ৯০–এর দশকে নারীশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে এই পদক্ষেপগুলো বাস্তব পরিবর্তন আনে।

অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও শিল্পায়ন
তার আমলেই ১৯৯১ সালে দেশে আধুনিক করব্যবস্থার অংশ হিসেবে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) চালু হয়। গার্মেন্টস খাতে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি চালুর মাধ্যমে রপ্তানি শিল্প দ্রুত প্রসার লাভ করে। পাশাপাশি, ১৯৯৩ সালে বেসরকারীকরণ বোর্ড গঠন করে শিল্প খাতে ব্যক্তিগত বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়।

অবকাঠামো ও পরিবেশ উন্নয়ন
বড় আকারের অবকাঠামো উন্নয়নের সূচনা ঘটে তার নেতৃত্বেই। যমুনা বহুমুখী সেতুর নির্মাণ কাজ ১৯৯৪ সালে শুরু হয়; একই সাথে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে মেঘনা ও গোমতী সেতু নির্মাণ প্রকল্পও বাস্তবায়িত হয়। গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক বিস্তারের ফলে কৃষি ও পণ্য পরিবহনে নতুন গতি আসে। পরিবেশ রক্ষায় ১৯৯২ সালে জাতীয় পরিবেশ নীতি প্রণয়ন ছিল তার সরকারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)–এর কার্যক্রম সক্রিয়করণে বেগম খালেদা জিয়া তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে।

প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক সংস্কার
২০০১–২০০৬ মেয়াদে সরকার টেলিকম খাত বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করে, যার ফলে দেশে মোবাইল যোগাযোগে বিপ্লব ঘটে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরির প্রবেশের বয়সসীমা ২৭ থেকে ৩০ বছর নির্ধারণ করে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়ানো হয়।


দেশের আধুনিক অর্থনৈতিক কাঠামো, নারী শিক্ষার প্রসার, এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের যে ধারাবাহিকতা এখনো বিদ্যমান—তার অনেকটাই এই সময়ের সংস্কার ও উদ্যোগের ভিত্তিতে গঠিত বলে বিশ্লেষকদের মত।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, লেখক

৪০৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
ফিচার নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন