নওগাঁয় বিএনপির দূর্গে ভাগ বসাতে চায় জামায়াত
শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:৪৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নওগাঁর রাজনীতিতে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের আগ পর্যন্ত দাপট দেখিয়েছে বিএনপি। তবে ২০০৮ সালের পর থেকে কিছু দিন আগেও এক”ছত্র দাপট ছিল আওয়ামী লীগের। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি ছিল কোণঠাসা।
গত বছরের ৫ আগাস্ট পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অধিকাংশই এখন আত্মগোপনে। এমন পরি¯ি’তিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জেলার সবকটি আসনে জয় পেতে জোরেশোরে মাঠে নেমেছে বিএনপি ও জামায়াত। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের প্রধান এই দুই রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা নওগাঁতে নিজ নিজ আসনে প্রতিদিন নানা কর্মসূচিতে অংশ নি”েছন। প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চলেও ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে।
১১ উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁয় সংসদীয় আসন ছয়টি। এর মধ্যে গত ৩ নভেম্বর পাঁচটিতে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করেছে। গত নভেম্বর ৩ তারিখে ২৩৭টি আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করা হলেও নওগাঁ-৫ (নওগাঁ সদর) আসন ‘ফাঁকা’ রাখা হয়েছিল। সর্বশেষ ৪ ডিসেম্বর বিকেলে দ্বিতীয় দফায় বিএনপি মনোনীত ৩৬ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীর নাম ঘোষনা করা হয়। দ্বিতীয় দফার ঘোষনায় নওগাঁ সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-৫ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ২০১৮ সালে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলুকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষনা করা হয়। দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা প্রতিদিন উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরন, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচিতে অংশ নি”েছন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ছয়টি আসনেই প্রার্থী নির্ধারণ করে অনেক আগে থেকেই গণসংযোগ শুরু করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও সবকটি আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচার-প্রচারণা চালা”েছ। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলার সবকটি আসনে নির্বাচনী প্র¯‘তি নেওয়ার কথা বললেও, এখনো মাঠে তারা দৃশ্যমান নয়। এনসিপি এখন পর্যন্ত একটি আসনে নওগাঁ সদর (নওগাঁ-৫) দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এছাড়া জেলার অন্য পাঁচটি আসনে প্রার্থী হতে চেয়ে ইতোমধ্যে পাঁচজন দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে। এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয় জাতীয় পার্টির কার্যক্রম। বামপš’ী দলগুলোর তেমন তৎপরতা না থাকলেও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) দুটি আসনে এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) একটি আসনে নির্বাচনের প্র¯‘তি নিয়ে এগো”েছ।
নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার)
১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই দুইবার আওয়ামী লীগ ও দুইবার বিএনপির প্রার্থী জয়ী হন। এবার আওয়ামী লীগ মাঠে নেই। ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী। এই আসনে নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের উপর আ¯’া রেখেছে বিএনপি। বর্তমানে তিনি গণসংযোগ, লিফলেট বিতরন, উঠান বৈঠক, কর্মী সমাবেশ, জনসমাবেশসহ নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে পাশে পা”েছন না দলের একাংশের নেতাকর্মীদের।
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে মোস্তাফিজুর রহমান ছাড়াও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য ও নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. ছালেক চৌধুরী। মোস্তাফিজুর রহমান দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে এখানে ছালেক চৌধুরীর অনুসারী নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন। গণসংযোগ, কর্মী সমাবেশসহ নানা কর্মসূচিতে ছালেক চৌধুরী ও তাঁর অনুসারী নেতাকর্মীদের পাশে পা”েছন না মোস্তাফিজুর রহমান, যা দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে ছালেক চৌধুরী বলেন, ‘এখনও চূড়ান্তভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার আগ পর্যন্ত মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে। চূড়ান্তভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেব।’
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মনোনয়ন পাওয়ার পর আমি দলের সবার সঙ্গে যোগাযোগ করছি। প্রায় সবাই আমাকে কথা দিয়েছেন তাঁরা ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করবেন। যে দুই-একজন দূরে আছেন তাঁদেরকে কাছে টানার চেষ্টা করছি। আশা করছি, ভোট যতই ঘনিয়ে আসবে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্য ততই দৃঢ় হবে।’
এখানে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘ দিন ধরে মাঠে কাজ করছেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হক শাহ চৌধুরী, এনসিপির মনোনয়ন প্রত্যাশী জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ন সদস্য সচিব দেওয়ান নিশাত আহমেদ মাঠে আছেন।
নওগাঁ-২ (পতœীতলা ও ধামইরহাট)
সাবেক সংসদ সংদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মো. সামসুজ্জোহা খানকে এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সামসুজ্জোহা খান। এই আসনেও প্রার্থী নিয়ে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এখানে তাঁর সঙ্গে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী। ভোটের মাঠে এখন পর্যন্ত সামসুজ্জোহা খানের কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তবে নাজিবুল্লাহ চৌধুরীকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার জন্য তাঁর কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। নাজিবুল্লাহর চৌধুরীর কর্মী-সমর্থকদের নিজের দিকে আনতে পারলে তাঁর জয় আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. সামসুজ্জোহা খান বলেন, ‘এখানে বিএনপি সব সময় ঐক্যবদ্ধ ছিল। ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার জন্য এখনও সবাই ঐক্যবদ্ধ আছে।’
জামায়াতে ইসলামী জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য প্রকৌশলী এনামুল হককে এখানে প্রার্থী করেছে। তিনি বর্তমানে বেশ সরব। তিনি নিয়মিত দলের কর্মসূচির পাশাপাশি মানুষের কাছে ছুটছেন ভোটের পাল্লা ভারী করার জন্য। এখানে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জেলা কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক দেলোয়ার হোসেন আলোচনায় আছেন। এনসিপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মো. মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেলের নাম মোনা যা”েছ।
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর ও বদলগাছী)
১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এই আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার সিদ্দিকী। তবে ২০০৮ সালে আসনটি হাতছাড়া হয় বিএনপির। বিএনপির ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত এই আসনটি পুনুরুদ্ধারের জন্য এখানে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে জাতীয়বাদী কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফজলে হুদা বাবুলকে। এখানে ফজলে হুদা ছাড়াও মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম বুলেট ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। দলীয় প্রার্থী হিসেবে ফজলে হুদার নাম ঘোষণা করার পর বিষয়টি মানতে পারছেন না রবিউল আলম ও পারভেজ আরেফিন এবং তাঁদের কর্মী-সমর্থকেরা। দলীয় প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবিতে রবিউল আলম ও পারভেজ আরেফিনের অনুসারী নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।
মনোনয়নবঞ্চিত পারভেজ আরেফিন বলেন, ‘ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার স্বার্থে এখানে প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবি জানা”েছ এখানকার বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা। এই আসন থেকে আমার বাবা বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এখানে আমি ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করে দেড় লাখের ওপরে ভোট পেয়েছিলাম। চূড়ান্তভাবে প্রার্থী ঘোষণার আগ পর্যন্ত এখানে আমি প্রার্থীতা পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন জানাতে থাকব।’
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফজলে হুদা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ও জামায়াতের লোকজনকে সংঘবদ্ধ করে প্রার্থী পুনর্বিবেচনার যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখানো হ”েছ এগুলো কোনো সমস্যা না। দীর্ঘ সময় ধরে আমি এলাকায় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছি। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। সবখানেই ব্যাপক সাড়া পা”িছ। বর্তমানে এখানে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে।’
এখানে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রচার চালা”েছন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য মাহফুজুর রহমান। তাঁর পক্ষে সংগঠনের নেতাকর্মীরা বেশ সক্রিয়। এখানে এনসিপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে আছেন মো. নওশের আলী। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন দলটির জেলা কমিটির সদস্য মুফতি নাসির বিন আসগর।
নওগাঁ-৪ (মান্দা)
১৯৯১ সালে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নাছির উদ্দিন বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তুলনামূলক ভালো ভোট পেলেও তিনি বিজয়ী হতে পারেননি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর থেকে নওগাঁ-৪ আসনে জামায়াত আর প্রার্থী দেয়নি। তবে উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এখানে জামায়াতের প্রার্থীরা তুলনামূলক ভালো ফল করেছেন। এবার জামায়াত এই আসনে প্রার্থী করেছে জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার আব্দুর রাকিবকে। দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এবারই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচন করছেন। নির্বাচন সামনে রেখে আব্দুর রাকিব নিয়মিত গণসংযোগ করছেন।
খন্দকার আব্দুর রাকিব বলেন, ‘মান্দায় বরাবরই জামায়াতের শক্ত অব¯’ান ছিল। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে এখানে জামায়াত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিল। ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এখানে জামায়াতের প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। আওয়ামী লীগের সময়েও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এখানে জামায়াতের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এখানে জামায়াতের অব¯’ান আরও শক্ত হয়েছে। দাঁড়িপাল্লার জয় নিশ্চিতে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাা”িছ। নিয়মিত গণসমাবেশ, সভা-সমাবেশ করছি। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’
বিএনপির হাই কমান্ড মান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-৪ আসনে প্রার্থী করেছে উপজেলা বিএনপির সদস্য, মান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মান্দা উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়াম্যান ডা. ইকরামুল বারী টিপুকে। বর্তমানে গণসংযোগ, লিফলেট বিতরন, উঠান বৈঠক, পথসভা, সভা-সমাবেশসহ নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে পাশে পা”েছন না দলের একাংশের নেতাকর্মীদের।
মান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক এমএ মতিন আসনটিতে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ডা. ইকরামুল বারী টিপুর নাম ঘোষণার পর থেকে এম এ মতিনের অনুসারী নেতা-কর্মীরা দুই তিন দিন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। এম এ মতিন বলেন, ‘সব আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে সক্রিয় ছিলাম। দুর্দিনে তৃণমূল নেতাদের পাশে ছিলাম, আছি ও থাকব। পুনর্বিবেচনা হলে মনোনয়ন পেতে পারি। তবে দলই সবার আগে।’
বিএনপি মনোনীত প্রাথী ডা, ইকরামুল বারী টিপু বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল। যাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হবে।’ ‘মনোনয়ন পাওয়ার পর আমি দলের সবার সঙ্গে যোগাযোগ করছি। প্রায় সবাই আমাকে কথা দিয়েছেন তাঁরা ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করবেন। যে দুই-একজন দূরে আছেন তাঁদেরকে কাছে টানার চেষ্টা করছি। আশা করছি, ভোট যতই ঘনিয়ে আসবে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্য ততই দৃঢ় হবে।’
এখানে এনসিপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে আছেন ইঞ্জিনিযার মো. আব্দুল হামিদ। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে সংগঠনটির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব হোসাইন ওয়ারেস এখানে মাঠে রয়েছেন।
নওগাঁ-৫ (নওগাঁ সদর)
সর্বশেষ দ্বিতীয় দফায় নওগাঁ-৫ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীও নাম ঘোষনা করেছেন। গুঞ্জন ছিলো এনসিপির সঙ্গে বিএনপির জোট হলে এ আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকবে না। এ নিয়ে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিলো। গত ৪ ডিসেম্বর বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থীর নাম ঘোষনা করায় নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্যে। গত ৪ ডিসেম্বর বিকেলে দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীসহ তার কর্মী সমর্থকরা দোয়া মাহফিল, উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরন, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচিতে অংশ নি”েছন।
]নওগাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নওগাঁ-৫ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ছয়জন বিএনপি নেতার নাম আলোচনায় ছিল। তাঁরা হলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজমুল হক সনি, ২০১৮ সালে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রাথী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান তুহিন এবং সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমান ডাবলু।
নওগাঁ সদর আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষনা আসার পর জেলা বিএনপির সভাপতি মো. আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, ‘আমাদের চাওয়া এখানে বিএনপির প্রার্থী দেওয়া হোক। বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকেরা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন।’ ৪ ডিসেম্বর প্রার্থীর নাম ঘোষনা করা হয়েছে। দলীয় নেতাকামী-সমর্থকদের নিয়ে আমরা এখন আগের চেয়ে অনেক উজ্জিবীত। বিএনপির দলীয় প্রার্থীও নাম ঘোষনা করায় নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্যে দেখা দিয়েছে। শুক্রবার বিকেলে নওগাঁ সদর উপজেলার বোয়ালিয়া মাঠে এক কর্মী সমাবেশে তিনি বলেন, ধানের শীর্ষ যার, আমরা তার পক্ষে সকল বিভেদ ভুলে কাজ করে ধানের শীষের বিজয়কে নিশ্চিত করবো। গত এক মাস আমরা অপেক্ষায় ছিলাম। এখন অপেক্ষার অবসান হয়েছে। সময় এসেছে সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ করে নওগাঁ সদর আসনসহ জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে একযোগে কাজ করা এবং ধানের শীষেল প্রার্থীকে বিজয়ি করা।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে নওগাঁ বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত। মাঝখানে ফাসিস্ট আওয়ামীলীগের সরকার ১৭ বছর মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করে রেখেছিলো। দিনের বোট রতে কওে তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিলো। ছাত্র-জনতার অভ্যূত্থানের পর এখন সময় এসেছে নওগাঁর ৬টি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ি করে আবারো নওগাঁ জেলাকে বিএনপির দূর্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
নওগাঁ-৫ আসনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে দলটির যুগ্ন আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই আসনে এখনো এনসিপির নির্বাচনী কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়।
নওগাঁ সদর আসনটিতে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আ স ম সায়েম দলীয় মনোনয়ন পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। মোটরসাইকেল শোডাউন, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরন, উঠান বৈঠক, পথসভা, সভা-সমাবেশসহ নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা আব্দুর রহমান মাঠে আছেন।
নওগাঁ-৬ (রাণীনগর ও আত্রাই)
বিএনপির শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত নওগাঁ-৬ আসন ১৯৯১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বিএনপির দখলে ছিল। পঞ্চম, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীয় প্রার্থী হিসেবে এখান থেকে জয় পান সাবেক জোট সরকারের প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির। এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন আলমগীর কবির। তবে বিএনপির হাই কমান্ড আ¯’া রেখেছে আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মো. রেজাউল ইসলামের ওপর। তাঁরা দুইজন ছাড়াও এই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বুলু।
শেখ মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। সাধারণ মানুষ মনেপ্রাণে ধানের শীষে ভোট দিতে চায়। নির্বাচন হলে এখানে ধানের শীষ বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।’
এখানে জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য খবিরুল ইসলামকে। এনসিপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে আছেন মো. গোলাম রব্বানী। ইসলামী আন্দোলন তাঁদের প্রার্থী হিসেবে এখানে মুফতি রফিকুল ইসলামকে চূড়ান্ত করেছে।
দৃশ্যমান নয় জাতীয় পার্টি
নওগাঁয় নির্বাচনী প্র¯‘তি শুরু করেনি জাতীয় পার্টি। কেন্দ্রীয় থেকেও এখন পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ইফতারুল ইসলাম বকুল।
১০৫ বার পড়া হয়েছে