সর্বশেষ

সারাদেশ

বর্ণিল আয়োজনে শুরু হয়েছে মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসব

মো.আরিফ, বান্দরবান
মো.আরিফ, বান্দরবান

সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৫ ৭:২০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব ‘সাংগ্রাই’ বান্দরবানে শুরু হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে।

সোমবার বিকেলে বান্দরবানের উজানী পাড়ার সাঙ্গু নদীর চরে আয়োজিত বুদ্ধমূর্তি স্নানের মাধ্যমে উৎসবের মূল আকর্ষণ ‘রিলংপোয়েঃ’ বা মৈত্রী পানি বর্ষণের সূচনা হয়।

শত শত নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, আবালবৃদ্ধ নির্বিশেষে সবাই খালি পায়ে চন্দন মিশ্রিত মঙ্গল জল হাতে নিয়ে রাজ গুরু বৌদ্ধ বিহার থেকে বের হন মঙ্গল শোভাযাত্রায়। প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে তারা সাঙ্গু নদীর তীরে সমবেত হন বুদ্ধস্নান অনুষ্ঠানে অংশ নিতে।

অনুষ্ঠানে ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন রাজ গুরু বিহারের বিহারাধ্যক্ষ ড. সুবর্ণ লংকরা মহাথেরো। তিনি পঞ্চশীল, অষ্টশীলসহ দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রার্থনা করেন। এ সময় উপস্থিত পূণ্যার্থীরা শীল গ্রহণ করেন এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে বুদ্ধমূর্তি স্নান অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। চন্দন ও ডাপের পানি এবং পূজা সামগ্রী দিয়ে তারা বুদ্ধমূর্তিকে স্নান করিয়ে আত্মশুদ্ধির প্রতীক হিসেবে ধর্মীয় অনুশীলন সম্পন্ন করেন।

উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি চনু মং মার্মা জানান, “সপ্তাহব্যাপী এই উৎসবের আজ দ্বিতীয় দিন। সাংগ্রাই উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হচ্ছে ‘মৈত্রী পানি বর্ষণ’ বা জলকেলি, যা আনন্দের মাধ্যমে সম্প্রীতির বার্তা বহন করে।”

তরুণী হ্লাসিংমে জানান, “সকালে বিহারে ছোয়াইং (আহার) দান করেছি। এরপর বুদ্ধস্নানে অংশ নিয়ে নিজের আত্মাকে পবিত্র করেছি। এখন অপেক্ষায় আছি মৈত্রী পানি বর্ষণের—এই অংশে সবার অংশগ্রহণ আমাকে আনন্দ দেয়।”


উৎসব উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী জলকেলির পাশাপাশি রয়েছে পাড়ায় পাড়ায় পিঠা তৈরি, বৌদ্ধ বিহারে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও গানসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। উৎসবের শেষ দিন ১৮ এপ্রিল, মৈত্রী পানি বর্ষণ ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী এই উৎসবের পর্দা নামবে।

১৩০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন