কিউ-ক্যাশের সিস্টেম মাইগ্রেশনে কয়েক দিন বন্ধ কিছু ব্যাংকিং সেবা
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১:৫৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে সিস্টেম উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কয়েকটি ব্যাংকের ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ড, এটিএম, সিআরএম ও পিওএসসহ কিছু ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলায় গ্রাহকদের কিছু ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে সীমিত রাখা হচ্ছে। কৃষি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও ন্যাশনাল ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক এ বিষয়ে গ্রাহকদের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে।
একটি ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত কয়েকটি কার্ড ও লেনদেন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
ব্যাংকটি জানিয়েছে, আরও উন্নত ও নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ করা হচ্ছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ও প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করা যাবে না। একই সময়ে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত এটিএম, ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন ও পয়েন্ট অব সেল সেবাও বন্ধ থাকবে।
তবে ডেবিট কার্ডের লেনদেন স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি। পাশাপাশি অন্যান্য ব্যাংকের এটিএম ও পিওএস, বাংলা কিউআর এবং মানি অ্যাপের মাধ্যমে ট্যাপ, বিকাশ, নগদ ও উপায়ে ফান্ড ট্রান্সফার চালু থাকবে। কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত নয়—এমন অন্যান্য ব্যাংকে ফান্ড ট্রান্সফারও স্বাভাবিক থাকবে।
এদিকে, হঠাৎ করে সেবা বন্ধ থাকায় কিছু গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছেন। ব্যাংকটির গ্রাহক ইমদাদ হোসেন মালিবাগের একটি এটিএম বুথে টাকা তুলতে গিয়ে জানতে পারেন, সেখানে পাঁচ দিনের জন্য লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তিনি বলেন, আগে থেকে জানানো হলে প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা তুলে রাখা সম্ভব হতো।
ব্যাংকিং খাতে সিস্টেম উন্নয়ন বা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সাময়িকভাবে কিছু সেবা বন্ধ রাখা নতুন ঘটনা নয়। প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর ধরন ও কাজের পরিধি অনুযায়ী কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত নির্দিষ্ট সেবা সীমিত থাকতে পারে। নির্ধারিত কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সেবাগুলো আবার স্বাভাবিকভাবে চালু হওয়ার কথা।
এ সময়ে জরুরি লেনদেনের প্রয়োজন হলে গ্রাহকদের বিকল্প ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব সেবা সচল রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় লেনদেন সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে।
ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকগুলোর প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর সক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বও বেড়েছে। ফলে কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা, কার্ড নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন ব্যাংকিং কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, নিরাপদ ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ চলছে। এর প্রভাবে আইটিসি তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের কিছু সেবা সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলো নিজেদের উদ্যোগে নিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে আগে থেকে জানানো হয়নি।
তিনি আরও বলেন, গ্রাহকদের সেবা বন্ধ রাখার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো আগে কোনো বিজ্ঞপ্তি বা পূর্বঘোষণা দেয়নি। ফলে হঠাৎ কয়েকটি সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
আরিফ হোসেন খান জানান, বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও ভালোভাবে নেননি। গুরুত্বপূর্ণ এ ধরনের সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে এককভাবে নেওয়াকে তিনি গর্হিত হিসেবে দেখছেন। এ ঘটনায় গভর্নর ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
১১১ বার পড়া হয়েছে