সর্বশেষ

ফিচার

আবুল কালাম শামসুদ্দীন: কালান্তরের শব্দসারথি

গাউসুর রহমান 
গাউসুর রহমান 

সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:৫২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
কালচক্রের আবর্তনে মানব ইতিহাসে এমন কিছু সন্ধিক্ষণ আসে, যখন চারপাশের চেনা জগৎটা নিঃশব্দে বদলাতে শুরু করে। সমাজ তখন যেন খোলস ছাড়ার অপেক্ষায় থাকা এক অস্থির সরীসৃপ। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগের বাংলার আকাশ এমনই এক গোধূলির বিষণ্ণতায় আর অনাগত ভোরের প্রত্যাশায় ঢাকা ছিল।

একদিকে ক্ষয়িষ্ণু আভিজাত্যের দীর্ঘশ্বাস, অন্যদিকে অনাগত নতুন দিনের পদধ্বনি। ১৮৯৭ সালের সেই মোহনায় জন্ম নিলেন এক কালান্তরের শব্দসারথি—আবুল কালাম শামসুদ্দীন। বাংলার ধূলিমলিন গ্রাম, স্রোতস্বিনী নদীর বাঁক আর সাধারণ মানুষের বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা অব্যক্ত যন্ত্রণার ভাষা যেন এক নতুন রূপ পেল তাঁর লেখনীতে। বিংশ শতাব্দীর বাঙালি মুসলিম সমাজের আত্মপরিচয় খোঁজার যে দীর্ঘ, কণ্টকাকীর্ণ পথ, সেই পথে তিনি কেবল একজন সাধারণ পথিক ছিলেন না। তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক স্থির, দিকনির্দেশক ধ্রুবতারা। সমাজ যখন দিকভ্রান্ত, মানুষ যখন সংস্কারের শেকলে বন্দি, তখন একটি কলম কীভাবে অন্ধকারের বুক চিরে আলোর রেখা ফুটিয়ে তোলে? আবুল কালাম শামসুদ্দীন যেন সেই প্রশ্নেরই এক জীবন্ত উত্তর। তাঁর কলম কেবল সমকালের নিস্তরঙ্গ জীবনে ঢিল ছোঁড়েনি, বরং তা হয়ে উঠেছিল সমাজ-বিবর্তনের এক ক্ষুরধার হাতিয়ার। সাংবাদিকতার নির্মোহ বস্তুনিষ্ঠতার সাথে সাহিত্যের কোমল, রসালু ব্যঞ্জনার এমন আশ্চর্য মিলন সচরাচর দেখা যায় না। তিনি কেবল শব্দের নিপুণ কারিগর ছিলেন না, ছিলেন এক দূরদর্শী সমাজ-দার্শনিক।

কী গভীর আর প্রশান্ত ছিল তাঁর সেই জীবনবোধ! রুদ্ধদ্বার প্রকোষ্ঠে যখন বাতাস ঢোকে না, সমাজ যখন গুমরে মরে, তখন প্রয়োজন হয় প্রবল এক ঝড়ের। ‘কাব্য সাহিত্যে বাঙালি মুসলমান’, ‘সাহিত্যে সাম্প্রদায়িকতা’ কিংবা ‘আমাদের সাহিত্য’—এই গ্রন্থগুলো ছিল সেই রুদ্ধশ্বাস সময়ের বুকে এক পুবালি বাতাসের ঝাপটা। তাঁর প্রবন্ধের দিকে তাকালে অবাক হতে হয়। সেখানে কোনো মেকি আভিজাত্য নেই, নেই কোনো সস্তা আবেগের আস্ফালন। আছে কেবল তীক্ষ্ণ, স্ফটিকস্বচ্ছ এক তাত্ত্বিক নির্মোহতা। সাহিত্যে সাম্প্রদায়িকতার যে বিষবাষ্প, তাকে তিনি চরম ঘৃণায় প্রত্যাখ্যান করেছেন আজীবন। শিল্প কি কেবল নির্দিষ্ট গণ্ডির দাসত্ব করবে? তিনি গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন, সাহিত্যের প্রধান ধর্ম হওয়া উচিত সত্যের আরাধনা এবং মানবের মুক্তি। যখনই শিল্পকে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা গোষ্ঠীগত গণ্ডিতে বাঁধার চেষ্টা করা হয়, তখনই তার প্রাণপাখি ডানা ঝাপটে মরে। সে পরিণত হয় এক প্রাণহীন জড়পদার্থে। তাঁর এই অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী দর্শন যেন এক প্রোজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। তিনি সাহিত্যকে শৌখিন বিলাসিতা বলে মানতে নারাজ ছিলেন। সাহিত্য জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা সমাজকে পথ দেখাবে অন্ধকারের গোলকধাঁধায়। যুক্তি আর তথ্যের নিরিখে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার যে ইতিবাচক বা পজিটিভিস্টিক তৃষ্ণা তাঁর মধ্যে ছিল, তা সমকালীন সাহিত্যাঙ্গনে এক বিরল দৃষ্টান্ত।

মানুষের জীবন তো কেবল কয়েকটি বছরের সমষ্টি নয়। তা এক অবিরাম সংগ্রাম, পারিপার্শ্বিকতার সাথে লড়ে যাওয়ার এক চলমান ইতিহাস। আবুল কালাম শামসুদ্দীনের আত্মজীবনী ‘অতীত দিনের স্মৃতি’ কেবল একজন ব্যক্তির দিনপঞ্জি নয়। এটি যেন বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের এক প্রামাণ্য সমাজতাত্ত্বিক দলিল। এই গ্রন্থে তিনি নিজেকে ব্যবচ্ছেদ করেছেন এক নির্মোহ চিকিৎসকের মতো। স্মৃতি বড় অদ্ভুত জিনিস। তা এক রহস্যময় আয়না। সেই আয়নায় ছায়াগুলো কদাচিৎ কায়া হয়ে ফেরে। কিন্তু সেই ধূসর ছায়ার মাঝেই কি লুকিয়ে থাকে না একটি জাতির উত্থান-পতনের নীরব মহাকাব্য? ক্ষীয়মাণ অভিজাত শ্রেণির অসহায় আত্মসমর্পণ আর নতুন মধ্যবিত্তের মাথা তুলে দাঁড়ানোর যে আখ্যান তিনি বুনেছেন, তা বিশ্বসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ আত্মজীবনীগুলোর পাশেই সগৌরবে আসন পাওয়ার যোগ্য। তাঁর এই স্মৃতিকথায় ব্যক্তিমানুষ কেবল পারিপার্শ্বিকতার ক্রীড়নক নয়। ব্যক্তি সেখানে ইতিহাসের সাথে লড়ে নিজের অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে। এই তো অস্তিত্ববাদের মূল সুর। তৎকালীন গ্রামবাংলার মেঠো পথ, শহরের ইট-পাথরের নিরস জীবন, সাধারণ মানুষের দারিদ্র্য, কুসংস্কার আর সামাজিক বৈষম্যের যে ছবি তিনি এঁকেছেন, তা সমাজতান্ত্রিক বাস্তববাদের এক নিখুঁত চিত্রকল্প। 

আবুল কালাম শামসুদ্দীনের রুশ সাহিত্যের প্রতি ছিল এক সুগভীর, আত্মিক টান। ইভান তুর্গেনিভের ‘ভার্জিন সয়েল’ যখন তাঁর হাতে ‘অনাবাদী জমি’ (১৯৩৮) হয়ে উঠল, তখন তা কেবল ভাষারান্তর রইল না। তা হয়ে উঠল ভাবান্তর আর সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এক মহাসড়ক। কোথায় বরফে ঢাকা সুদূর রাশিয়া আর কোথায় বাংলার কাদামাটিমাখা কৃষিসমাজ! বাংলার সাধারণ পাঠককে বিশ্বজনীন প্রগতিশীল চিন্তার বিশাল আকাশের নিচে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার এক ঐকান্তিক প্রয়াস। তাঁর অনুবাদের ভাষা ছিল মূলানুগ অথচ নদীর স্রোতের মতো স্বচ্ছন্দ, যেখানে অনুবাদকের নিজস্ব সত্তা মূল লেখকের অন্তরালে সন্তর্পণে লুকিয়ে থাকে।

একজন প্রকৃত সমালোচক তো কেবল ত্রুটি খোঁজেন না। তিনি তো জহুরি। তিনি ধুলোর ভেতর থেকে তুলে আনেন আসল হিরে। সাহিত্য সমালোচক হিসেবে আবুল কালাম শামসুদ্দীনের ভূমিকা ছিল ঠিক এমনই যুগান্তকারী। কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলা সাহিত্যের ‘তৃতীয় যুগ-স্রষ্টা’ এবং ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে চিহ্নিত করার যে স্পর্ধা ও দূরদৃষ্টি তিনি দেখিয়েছিলেন, তা আজকের দিনে ধ্রুবসত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। নজরুলের সেই বিদ্রোহী সত্তা, কাব্যের বৈপ্লবিক সুর—এসবের এমন নিখুঁত মূল্যায়ন সমকালের অনেক প্রথিতযশা সমালোচকও করতে পারেননি। নজরুল তো কেবল কবি নন। তিনি এক উত্তাল তরঙ্গ। যে তরঙ্গ সুপ্ত চেতনার তটে আছড়ে পড়ে জরা আর স্থবিরতাকে ধুয়ে মুছে সাফ করে দেয়। সাম্য আর বিদ্রোহের এই শৈল্পিক সমন্বয়কে শামসুদ্দীন মেপেছিলেন মার্কসীয় নন্দনতত্ত্বের নিক্তিতে। সাহিত্যের শিল্পগুণ বিচারের পাশাপাশি তার সামাজিক উপযোগিতা আর গণমুখী চরিত্রকে তিনি সবার ওপরে স্থান দিয়েছিলেন। তাঁর এই প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে সমকালের অন্যান্য সমালোচকদের থেকে এক স্বতন্ত্র উচ্চতায় আসীন করেছিল।

ইতিহাস কি কেবল রাজপ্রাসাদের অন্ধকার অলিন্দে বোনা ষড়যন্ত্রের দলিল? নাকি তা খেটে খাওয়া মানুষের ঘামে ভেজা এক দীর্ঘ সংগ্রাম? ‘ত্রিস্রোতা’, ‘খরতরঙ্গ’, ‘দৃষ্টিকোণ’ এবং বিশেষ করে ‘পলাশী থেকে পাকিস্তান’—এই গ্রন্থগুলোর দিকে তাকালে তাঁর ঐতিহাসিক বিচারবোধের প্রখরতা টের পাওয়া যায়। পলাশী থেকে পাকিস্তান পর্যন্ত এক দীর্ঘ, রক্তাক্ত পথকে তিনি যেভাবে সংক্ষেপে অথচ গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন, তা কেবল ঐতিহাসিক বস্তুবাদী চেতনারই ফসল। পুরোনো সমাজব্যবস্থার বিনাশ আর নতুন ব্যবস্থার অভ্যুদয়কে তিনি ডায়ালেক্টিক্যাল মেটেরিয়ালিজম বা দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের ছাঁচে ফেলে এক অনিবার্য সত্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাঁর লেখনীতে ইতিহাস হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের এক নিরন্তর আখ্যান। এমনকি শিশুদের জন্য লেখা ‘কচিপাতা’ বা ‘দিগ্বিজয়ী তাইমুর’-এর মতো বইগুলোতেও লুকিয়ে আছে চারিত্রিক দৃঢ়তা আর জ্ঞানার্জনের এক বিশাল মহাসমুদ্র। কোমলমতি মনকে তিনি কেবল রূপকথার মায়াজালে না জড়িয়ে, বাস্তবের কঠিন মাটিতে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন।

কী আশ্চর্য সুন্দর তাঁর গদ্যশৈলী! তাঁর ভাষা ঋজু, মেদহীন, অথচ এক অদ্ভুত আভিজাত্যে মোড়ানো। সাংবাদিকতার পেশা হয়তো তাঁর কলমকে দিয়েছিল গতি ও প্রত্যক্ষতা। কিন্তু সেই গতির সাথে মিশেছিল শিল্পের মাধুর্য। তিনি অলংকারের বাহুল্য বর্জন করতেন। ভাব প্রকাশের গভীরতাই ছিল তাঁর কাছে মুখ্য। তাঁর বাক্যের গঠনশৈলীতে এক ধরণের জ্যামিতিক শৃঙ্খলা কাজ করত। তৎসম ও তদ্ভব শব্দের এক চমৎকার, নিপুণ ভারসাম্য বজায় রাখতেন তিনি। তাঁর গদ্য যেন এক শান্ত, গভীর নদীর মতো। ওপরে কোনো ফেনা নেই, কোনো উচ্ছ্বাস নেই। কিন্তু ভেতরে কান পাতলে শোনা যায় বিপুল জলরাশির গর্জন। শব্দ যখন কেবল শ্রুতিমধুর হওয়ার মোহ ত্যাগ করে সত্যের বাহক হয়, তখনই তা প্রকৃত সাহিত্যের মর্যাদা পায়। এই তো ছিল তাঁর জীবনব্যাপী সাহিত্য সাধনার মূলমন্ত্র। সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস আর আনন্দ যেন তাঁর সেই মেদহীন গদ্যের বাঁকে বাঁকে মূর্ত হয়ে উঠত এক জীবন্ত ভাস্কর্যের মতো।

তিনি ছিলেন এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি সত্যের সাথে কোনোদিন আপস করেননি। ১৯৫২ সালে রাজপথে যখন ভাষার জন্য রক্ত ঝরছে, যখন পিচঢালা পথ তরতাজা তরুণের রক্তে রঞ্জিত, তখন একজন লেখক, একজন সাংবাদিক হিসেবে তিনি কেবল জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দূর থেকে দীর্ঘশ্বাস ফেলেননি। তিনি ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে গণপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। এই যে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর অপরিমেয় সাহস, এই চারিত্রিক দৃঢ়তাই তো তাঁর সাহিত্যকে এক অন্যরকম মহিমায় ভাস্বর করেছে। তিনি দেখিয়েছিলেন, লেখনী আর জীবন যখন এক সুতোয় গাঁথা হয়, তখনই শিল্পের প্রকৃত জন্ম হয়।


একজন মানুষ কবে ফুরিয়ে যান? মৃত্যুতেই কি সব শেষ হয়ে যায়? নাকি কিছু মানুষের জীবন মৃত্যুর সীমানা ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয় অনন্তের পানে? আবুল কালাম শামসুদ্দীনের দিকে তাকালে মনে হয়, তিনি কেবল একটি যুগের কণ্ঠস্বর ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের সমার্থক। অজ্ঞতার বিরুদ্ধে, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে, পরাধীনতার বিরুদ্ধে এক নিঃশব্দ যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন আজীবন। উনিশ শতকের গোধূলি থেকে বিশ শতকের শেষভাগ—এই বিশাল সময়কাল জুড়ে তাঁর যে জীবন-ব্যাপ্তি, তা যেন এক প্রবহমান নদীর উপাখ্যান। বাংলা একাডেমি পুরস্কার বা একুশে পদকের মতো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিগুলো তো কেবল জাগতিক নিয়মরক্ষা। একজন শিল্পীর আসল পুরস্কার হলো মানুষের মনে রেখে যাওয়া সেই অমলিন ছাপ। কলম যে কেবল কালির আধার নয়, কলম যে চেতনার এক প্রদীপ্ত অগ্নিশিখা, তা তিনি নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন। জীবন বড়ই সংক্ষিপ্ত। ঘড়ির কাঁটার সাথে পাল্লা দিয়ে ফুরিয়ে আসে মানুষের আয়ু। কিন্তু সৃষ্টি যখন সত্যের শক্ত জমিনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তখন সে তো কালজয়ী অমরতা লাভ করে। কালের ধুলো তাকে ম্লান করতে পারে না, বরং সময়ের আবর্তনে সে আরও বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সেই অমোঘ অমরত্বের পথ ধরেই হেঁটে গেছেন এই শব্দসারথি। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি বুনে গেছেন এক অবিনাশী সাহিত্য-ভাণ্ডার, যা অনাগত ভবিষ্যতের বুকে এক স্নিগ্ধ, দার্শনিক আলোর মতো পথ দেখাবে অনন্তকাল। আলো আর অন্ধকারের এই অন্তহীন খেলায়, তাঁর মতো মানুষেরাই তো জ্বেলে রাখেন সভ্যতার প্রদীপ।

 

 লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক।

১২৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
ফিচার নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন