শিকলভাঙার গান নাকি মরীচিকার পিছুটান
বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের উত্তরাধিকার
মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬ ৮:০৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
আজ বর্ষার মেঘগুলো ঢাকার আকাশে পুঞ্জীভূত হচ্ছে, ঠিক যেমনটি হয়তো একশো বছর আগে কোনো এক আষাঢ়ের ভোরে মেঘ জমেছিল ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার সচিবালয়ের কার্নিশে। সময় বদলেছে, বদলেছে মানচিত্র; কিন্তু প্রশাসনিক অন্দরমহলের সেই চেনা গুমোট গন্ধটা কি খুব একটা বদলেছে?
যখন আমরা বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসের পঞ্জিকা উন্মোচন করি, তখন দেখি এক সুদীর্ঘ এবং কণ্টকাকীর্ণ পথচলা। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের শাসনকাঠামো যখন তার জন্মের অর্ধশতাব্দী পরেও এক ঔপনিবেশিক প্রেতাত্মার ছায়ায় বিচরণ করে, তখন সেই সংকট কেবল প্রশাসনিক থাকে না, তা হয়ে ওঠে অস্তিত্বের এবং দর্শনের। বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র কেবল একটি কার্যনির্বাহী ব্যবস্থা নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক উত্তরাধিকার, যা ব্রিটিশ রাজের ‘স্টিল ফ্রেম’ বা ইস্পাত কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকো তাঁর ‘গভর্নমেন্টালিটি’ (Governmentality) তত্ত্বে দেখিয়েছিলেন যে, আধুনিক রাষ্ট্র কীভাবে তার নাগরিকদের সূক্ষ্ম তন্তুর মতো নিয়ন্ত্রণের জালে আবদ্ধ করে। বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রের দিকে তাকালে ফুকোর এই তত্ত্বে যেন এক করুণ সুর খুঁজে পাওয়া যায়। ১৮৫৮ সালের ‘ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস’ (ICS) তৈরি করা হয়েছিল মুষ্টিমেয় শ্বেতাঙ্গ শাসকের মাধ্যমে এক বিশাল ভূখণ্ডকে নিগূঢ় নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য। লর্ড মেকলে যখন তাঁর বিখ্যাত ‘মিনিট অন এডুকেশন’-এ একদল ‘বাদামী সাহেব’ তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন, তিনি মূলত একটি মধ্যস্থতাকারী শ্রেণির জন্ম দিতে চেয়েছিলেন যারা রক্তে-মাংসে এদেশীয় হলেও রুচি, মত আর মনস্তত্ত্বে হবে পাক্কা ব্রিটিশ।
আজকের বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (BCS) কি সেই মেকলের ছায়া থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পেরেছে? প্রশ্নটি শুনতে রূঢ় মনে হলেও এর উত্তর আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে আছে। আজও যখন একজন জেলা প্রশাসক বা সচিবালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সাধারণ মানুষের থেকে যোজন যোজন দূরত্ব বজায় রাখেন এবং ‘স্যার’ বা ‘হুজুর’ সংস্কৃতির আড়ালে নিজেদের আভিজাত্যকে সুরক্ষিত করেন, তখন ফ্রান্তজ ফানোর ‘দ্য রেচেড অফ দি আর্থ’ (The Wretched of the Earth) গ্রন্থের সেই সতর্কবাণী কানে বাজে। ফানো বলেছিলেন, জাতীয় বুর্জোয়া শ্রেণি যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে, তারা কেবল ঔপনিবেশিক প্রভুর আসনটিই দখল করে না, বরং তাদের শোষণমূলক মনস্তত্ত্বকেও নিজেদের মজ্জায় ধারণ করে। আমাদের প্রশাসনিক কাঠামোর এই যে ‘সাহেবিয়ানা’, তা কি কেবলই পোশাকের আড়ম্বর? নাকি এর গভীরে লুকিয়ে আছে সাধারণ মানুষকে ‘প্রজা’ ভাবার এক সুপ্ত বাসনা?
প্রশাসনিক এই কাঠামোতে ‘সাধারণজ্ঞ’ বা ‘জেনারেলিস্ট’দের যে একাধিপত্য, তা মূলত ব্রিটিশ অপশাসনের এক অবশিষ্টাংশ। ব্রিটিশরা মনে করত, একজন আইসিএস কর্মকর্তা লাঙল থেকে শুরু করে আকাশযান সবকিছুরই শাসনভার পরিচালনার যোগ্য। তাঁর কেবল প্রয়োজন আভিজাত্য আর নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা। কিন্তু ২০২৬ সালের এই বিশেষায়িত বিশ্বে যখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এবং জটিল অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে কাজ করছি, তখন অন্যান্য কর্মকর্তাদের ওপর প্রশাসনিক ক্যাডারের এই প্রশ্নহীন কর্তৃত্ব এক চরম বৈপরীত্যের সৃষ্টি করে।
ভাবুন তো, একজন নিবেদিতপ্রাণ মেধাবী পেশাজীবী যখন নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছাতে গিয়ে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে থমকে যান, তখন মেধাভিত্তিক রাষ্ট্রের ধারণাটি কি ধূলিসাৎ হয় না? এখানে ম্যাক্স ভেবারের ‘আইডিয়াল টাইপ’ আমলাতন্ত্রের যে যুক্তিনির্ভর কাঠামোর কথা বলা হয়েছিল, তা বাংলাদেশে এসে এক ‘আয়রণ কেজ’ বা লৌহ খাঁচায় পরিণত হয়েছে। এই খাঁচায় সৃজনশীলতা ডানা ঝাপটায়, কিন্তু মুক্ত হতে পারে না; কারণ এখানে নিয়মনিষ্ঠার অন্ধ অনুকরণই চূড়ান্ত সত্য বলে গণ্য হয়। অথচ নদী যেমন তার গতিপথ পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রাণশক্তি ধরে রাখে, একটি সচল রাষ্ট্রের প্রশাসনকেও তেমনি সময়ের প্রয়োজনে নমনীয় হতে হয়। আমাদের প্রশাসন কি সেই নমনীয়তা অর্জন করতে পেরেছে?
বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রে একটি অভ্যন্তরীণ ঔপনিবেশিকতা বিরাজমান। এখানে রাজধানী-কেন্দ্রিক সচিবালয় প্রান্তিক জনপদকে কেবল শাসনের বস্তু হিসেবে দেখে, উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে নয়। গ্রামের শেষ প্রান্তের মানুষটির জীবনের চাওয়া-পাওয়া যখন ঢাকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে, তখন সেই শাসনের মধ্যে মানবিকতার চেয়ে যান্ত্রিকতাই বড় হয়ে ওঠে। যেন রবীন্দ্রনাথের সেই কথাটিই সত্য হয়ে দাঁড়ায় "বাহিরের বাঁধনটাই যখন বড়ো হইয়া উঠে এবং ভিতরের মানুষের সাড়া পাওয়া যায় না, তখনই যন্ত্রের রাজত্ব শুরু হয়।" আমাদের প্রশাসন আজ কি সেই যন্ত্রের রাজত্বে পরিণত হয়নি?
‘রেড ট্যাপিজম’ বা লাল ফিতার দৌরাত্ম্য শব্দবন্ধটি এখানে কেবল একটি প্রশাসনিক পরিভাষা নয়, বরং এটি একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক ব্যারিকেড। ব্রিটিশ শাসকরা এই জটিল প্রক্রিয়া তৈরি করেছিল যাতে কোনো সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া না যায় এবং প্রতিটি স্তরে যেন শাসনের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে। কিন্তু আজ কেন একটি সাধারণ ফাইলের গন্তব্য খুঁজে পেতে মাসের পর মাস সময় লাগে?
এর মূলে রয়েছে ‘অবিশ্বাস’। ব্রিটিশরা তাদের প্রজাদের বিশ্বাস করত না বলেই প্রতিটি নথিতে একাধিক স্বাক্ষরের নিয়ম প্রবর্তন করেছিল। আজও সেই অবিশ্বাসের সংস্কৃতি আমাদের প্রশাসনিক গতিশীলতাকে রুদ্ধ করে রেখেছে। একটি ফাইলে যখন দশটি দপ্তরের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্র তার নিজ কর্মীদের ওপরই আস্থা রাখতে পারছে না। এই অবিশ্বাসের পরিবেশ কেবল কাজকে দীর্ঘায়িত করে না, বরং দুর্নীতির এক উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করে। মানুষ যখন নিয়ম মেনে ফল পায় না, তখনই সে বিকল্প বা অন্ধকার পথের সন্ধান করে।
বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রকে বুঝতে হলে এর ‘শ্রেণি চরিত্রের’ দিকে তাকাতে হবে। সিভিল সার্ভিস এখন কেবল একটি চাকরি নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত ক্ষমতাশালী সামাজিক শ্রেণিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এই শ্রেণির সদস্যরা নিজেদের সাধারণ জনগণের সেবক হিসেবে নয়, বরং ‘শাসক’ হিসেবে দেখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ঔপনিবেশিক আমলের ‘ম্যাজিস্ট্রেট’ শব্দটি আজও মফস্বল শহরগুলোতে যে সম্ভ্রম ও ভীতির উদ্রেক করে, তা একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য কতটা মানানসই, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়।
রাষ্ট্রের মালিক যে জনগণ, এই ধ্রুব সত্যটি আমলাতান্ত্রিক ফাইলের স্তূপের নিচে যেন চিরতরে চাপা পড়ে গেছে। আমলারা অনেক সময় জনস্বার্থের চেয়ে নিজেদের সুযোগ-সুবিধা, পদোন্নতি ও ক্ষমতা প্রসারের দিকেই বেশি মনোযোগী থাকেন। একেই জেমস বুকানন ‘বিউরোক্রেটিক এক্সপ্যানশন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। যখন কোনো দপ্তরের জনবল বাড়ানোর চেয়ে ক্ষমতার পরিধি বাড়ানোই মূখ্য হয়ে ওঠে, তখন সেখানে সেবার চেয়ে শাসনের আধিক্যই প্রকট হয়।
ব্রিটিশরা 'ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর' বা জেলা প্রশাসকের ওপর বিপুল ক্ষমতা অর্পণ করেছিল যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কর আদায় ও নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। বাংলাদেশে জেলা প্রশাসনের বর্তমান রূপ সেই ঔপনিবেশিক জেলা প্রশাসকেরই এক আধুনিক সংস্করণ। আজও স্থানীয় সরকার কাঠামোর ওপর জেলা প্রশাসনের যে নিগূঢ় নিয়ন্ত্রণ এবং কেন্দ্রমুখী প্রশাসনিক ব্যবস্থা, তা ব্রিটিশ মডেলেরই উত্তরসূরি।
প্রশ্ন জাগে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের চেয়ে একজন আমলা কেন জেলার অধিক ক্ষমতার অধিকারী হবেন? একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতার উৎস হওয়ার কথা ছিল জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের। কিন্তু আমাদের প্রশাসনিক কাঠামো এমনভাবে বিন্যস্ত যে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও অনেক সময় একজন আমলার মর্জির ওপর নির্ভর করতে হয়। এই যে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা, তা কি সুশাসনের পথে এক বিশাল অন্তরায় নয়?
এখন সংস্কারের পথরেখা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে কেবল প্রশিক্ষণ মডিউল পরিবর্তন বা ই-গভর্ন্যান্স চালু করলেই হবে না। এর জন্য প্রয়োজন এক গভীর সাংস্কৃতিক বিপ্লব। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি বা ১৮৯১ সালের পুলিশ আইনের মতো পুরনো এবং নিবর্তনমূলক আইনগুলোকে আঁকড়ে ধরে আধুনিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ হতে হবে প্রকৃত অর্থে কার্যকর।
আমলাতন্ত্রের আধুনিকায়ন মানে কেবল টেবিলের ওপর ল্যাপটপ সাজানো নয়, বরং এর অর্থ হলো দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা। জনগণের করের টাকায় পালিত এই বিশাল বাহিনী যখন জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে না, তখন সেখানে স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার বীজ বপন করা সহজ হয়। সংস্কারের জন্য প্রয়োজন এমন এক ‘অ্যাডহিল’ বা তরল কাঠামো, যা সময়ের প্রয়োজনে দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে। প্রথাগত হায়ারার্কি বা উচ্চানুক্রমিক কাঠামো ভেঙে দিয়ে কোলাবোরেটিভ বা সহযোগিতামূলক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা এখন সময়ের দাবি।
একুশ শতকের এই ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র এক গভীর ‘আইডেন্টিটি ক্রাইসিস’ বা পরিচয় সংকটে ভুগছে। তারা একদিকে আধুনিক রাষ্ট্রের চৌকস সেবক হতে চায়, অন্যদিকে ঔপনিবেশিক ক্ষমতার মোহময় স্বাদ ত্যাগ করতে পারে না। এই দোটানাই জন্ম দেয় অদক্ষতা এবং দুর্নীতির।
দুর্নীতি এখানে কেবল আর্থিক লেনদেনে সীমাবদ্ধ নেই; মেধার দুর্নীতি এবং নৈতিকতার বিচ্যুতি এখানে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যখন আমলাতন্ত্র তার নিরপেক্ষতা হারায়, তখন রাষ্ট্রযন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হয়। কার্ল মার্ক্স আমলাতন্ত্রকে রাষ্ট্রের ‘পরজীবী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন, যা রাষ্ট্র ও সমাজের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সমস্ত জীবনীশক্তি শোষণ করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই পরজীবী চরিত্রের অবসান ঘটিয়ে একে একটি উৎপাদনশীল শক্তিতে রূপান্তর করাই হবে আগামী দিনের প্রধানতম চ্যালেঞ্জ।
প্রশাসনিক সংস্কারের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো আমলাতন্ত্র নিজেই। কোনো শক্তিশালী গোষ্ঠীই নিজের ক্ষমতা স্বেচ্ছায় ত্যাগ করতে চায় না। তাই এই সংস্কার হতে হবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃঢ় অঙ্গীকারের মাধ্যমে।
দার্শনিক হেগেল মনে করতেন, আমলাতন্ত্র হলো সমাজের সাধারণ স্বার্থের রক্ষক। কিন্তু আমাদের বাস্তবতায় আমলাতন্ত্র প্রায়শই বিশেষ স্বার্থের রক্ষক হিসেবে আবির্ভূত হয়। এই বৃত্ত ভাঙার দায়িত্ব কি কেবল রাজনীতিকদের? নাকি সচেতন নাগরিক সমাজেরও এখানে এক বড় ভূমিকা রয়েছে?
বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রের মুক্তি কেবল কোনো নতুন আইনের সংশোধনীর মাধ্যমে সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল থেকে মানসিক মুক্তি। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় "চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির" আমাদের প্রতিটি সরকারি দফতর যেন এই চেতনার প্রতিফলন ঘটায়।
২০২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত এমন এক প্রশাসন গড়ে তোলা, যা সাধারণ মানুষের চোখের ভাষা বুঝবে। যা ফাইলের দীর্ঘসূত্রতাকে ঘৃণা করবে এবং যা ক্ষমতার দম্ভের বদলে সেবার মাধুর্যে উজ্জ্বল হবে। ঔপনিবেশিক ‘শাসক’ থেকে গণতান্ত্রিক ‘সেবক’ হওয়ার এই রূপান্তরই হোক আমাদের আগামীর পথরেখা। আমলাতন্ত্র যখন তার অদৃশ্য দেয়াল ভেঙে জনগণের প্রাঙ্গণে এসে দাঁড়াবে, তখনই আমরা বলতে পারব আমরা প্রকৃত অর্থে একটি স্বাধীন ও আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছি।
ইতিহাস সাক্ষী দেয়, কোনো জাতিই তার প্রশাসনিক কাঠামোকে স্থবির রেখে প্রকৃত উন্নতি করতে পারেনি। তাই আজ সময় এসেছে সেই প্রাচীন ইস্পাত কাঠামোকে গলিয়ে জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ছাঁচে ঢালাই করার। ঔপনিবেশিকতার দীর্ঘ ছায়া মুছে গিয়ে সেখানে উদিত হোক জনকল্যাণের নবসূর্য। পথ হয়তো দীর্ঘ, কিন্তু চলা শুরু না করলে তো গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে না। সংস্কারের এই দীর্ঘ যাত্রায় প্রয়োজন মেধা, সততা এবং সর্বোর্পরি এক বুক গভীর দেশপ্রেম। সেই সুদিনের প্রত্যাশায় আজ কি আমরা অন্তত একটি পরিবর্তনের শপথ নিতে পারি না?
১৫০ বার পড়া হয়েছে