ময়মনসিংহে বিএনপি কর্মী হত্যার পর উত্তেজনা: জামায়াত নেতার বাড়িসহ ১২টি ঘর ভাঙচুর
বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬ ৪:৫৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহ নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যাপাড়া এলাকায় বিএনপি কর্মী হত্যাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। নিহতের মরদেহ বাড়িতে আনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে জামায়াত নেতার বাড়িসহ অন্তত ১২টি ঘর ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গেছে।
বুধবার (৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রানার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে বাড়িতে আনার পরই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে স্বজনরা মাইকে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানালেও বিক্ষুব্ধ জনতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ সময় একটি খড়ের গাদায় আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার নেতৃত্বে হামলার ঘটনায় বিএনপি কর্মী রানা মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মোফাজ্জর হোসেন মঙ্গলবার রাতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্থানীয় জামায়াত নেতা মফিদুল ইসলাম মাস্টারসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ১০–১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযানে নেমে জামায়াত নেতার ছেলেসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের আদালতে পাঠিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহত রানা মিয়া পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। হামলায় আরও অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, এটি গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের ফল।
এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
২২৫ বার পড়া হয়েছে