ঈদ সামনে, দৌলতপুরের কামারশালায় বেড়েছে ব্যস্ততা
রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬ ৮:১৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাঁশ, পাটকাঠি ও ছন দিয়ে তৈরি ছোট্ট কুঁড়ে ঘর। বাইরে থেকে সাধারণ মনে হলেও ভেতরে ঢুকতেই শোনা যায় হাতুড়ির আঘাত আর গরম লোহা পেটানোর টুংটাং শব্দ। সেই শব্দই জানান দিচ্ছে- সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা। আর ঈদকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে দৌলতপুর উপজেলার কামারশালাগুলো।
বছরের অধিকাংশ সময় নিরব পড়ে থাকা এসব কামারশালায় এখন ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ছুরি, দা, বটি ও চাপাতি তৈরির কাজ। তবে নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরোনো সরঞ্জাম মেরামত ও শান দেওয়ার কাজই বেশি করছেন কামাররা।
কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে কিংবা পুরোনোগুলো ধারালো করতে প্রতিদিনই কামারশালাগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
উপজেলার সদর, হোসেনাবাদ, প্রাগপুর, মরিচা, ফিলিপনগর, খলিশাকুন্ডি, আল্লারদর্গা ও তারাগুনিয়া এলাকার বিভিন্ন কামারশালায় গিয়ে দেখা যায়, আগুনে লোহা গরম করে হাতুড়ির আঘাতে তৈরি করা হচ্ছে নানা ধরনের ধারালো সরঞ্জাম। একদিকে তৈরি হচ্ছে নতুন ছুরি-বটি, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ পুরোনো দা-ছুরি শান দিতে নিয়ে আসছেন।
কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকার ও মানভেদে ছুরি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। দা ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা, বটি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং চাপাতি ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পুরোনো ছুরি বা দা শান দিতে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে কাজের ধরন অনুযায়ী ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
হোসেনাবাদ বাজারের কামার প্রশান্ত বলেন, “বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করেই সবচেয়ে বেশি কাজের চাপ থাকে। কয়েকদিন ধরে রাত জেগে কাজ করছি। কিন্তু লোহা ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও অনেক বেড়েছে। এখন নতুন করে আর কাজ নিচ্ছি না। আগের অর্ডারের কাজ শেষ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
আরেক কামার রামপদ কর্মকার বলেন, “ঈদের আগে কাজের অনেক চাপ থাকে। মানুষ নতুন ছুরি-বটি কিনছে, আবার পুরোনোগুলোও শান দিচ্ছে। এই সময়টাতে যা আয় হয়, তা দিয়েই বছরের অনেকটা সময় চলে। তবে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারে ধীরে ধীরে এই শিল্প বিলীনের পথে চলে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মও আর এই পেশায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে আমাদের অনেকেই এখন কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছি।”
কামারশালায় আসা জাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি পাঁচটি ছুরি ও দুটি চাপাতি মেরামত ও ধারালো করতে এনেছেন। তিনি বলেন, “কোরবানির দিন আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে পশু কোরবানি দেওয়া হবে। তাই আগে থেকেই সরঞ্জামগুলো ঠিকঠাক করে নিচ্ছি। বছরে এই একবারই এসবের প্রয়োজন হয়। দোকানে এখন এত ভিড় যে ঈদের আগের দিন এসে নিতে বলেছে।”
আরেক ক্রেতা আতিকুর রহমান বলেন, “আমি নতুন করে দুটি ছুরি ও একটি বটি কিনতে এসেছি। বর্তমান বাজারদর ও শ্রমের তুলনায় দাম ঠিকই আছে।”
ক্রেতাদের ভাষ্য, কোরবানির সময় ভালো মানের ধারালো সরঞ্জামের চাহিদা বেড়ে যায়। আর সে কারণেই স্থানীয় কামারদের হাতে তৈরি সরঞ্জামের ওপরই বেশি আস্থা রাখছেন তারা।
১৩০ বার পড়া হয়েছে