সর্বশেষ

সারাদেশ

ময়মনসিংহে কোরবানির হাটে গরুর সরবরাহ বেশি, ক্রেতা সংকটে হতাশ খামারিরা

আওলাদ রুবেল, ময়মনসিংহ 
আওলাদ রুবেল, ময়মনসিংহ 

রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬ ৫:৩৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশুর হাটগুলোতে ব্যাপক সরবরাহ দেখা গেলেও প্রত্যাশিত ক্রেতার উপস্থিতি না থাকায় বেচাকেনায় স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন হাটে দেশি-বিদেশি জাতের গরু-ছাগল উঠলেও ক্রেতারা দাম বেশি হওয়ায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে অনেক খামারি ও বিক্রেতা পড়েছেন লোকসানের শঙ্কায়।

জেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাট হিসেবে পরিচিত মুক্তাগাছার ত্রিমোহনী নতুন বাজার হাটে বুধবার (২০ মে) সকাল থেকেই পশুর সরবরাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। আশপাশের জেলা থেকেও খামারিরা গরু-ছাগল নিয়ে আসেন। তবে সারাদিন হাটে ঘুরে দেখা যায়, পশুর সংখ্যা বেশি হলেও ক্রেতা তুলনামূলকভাবে কম।

জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোরবানিকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহে ১৫০টিরও বেশি স্থায়ী ও অস্থায়ী হাট বসেছে। এর মধ্যে মুক্তাগাছার হাটটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এখানে নিয়মিত প্রতি বুধবার দেশি-বিদেশি জাতের গরু, ছাগল ও অন্যান্য পশু কেনাবেচা হয়।

খামারিদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে পালন করা গরুর প্রত্যাশিত দাম তারা পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতারা তুলনামূলক কম দাম প্রস্তাব করছেন, যা তাদের জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

একজন খামারি জানান, তিনি এক লাখের বেশি টাকায় কেনা গরু এখন অনেক কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

অন্যদিকে আরেকজন বিক্রেতা জানান, এক বছর ধরে লালন-পালন করা গরুর দাম বাজারে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম হওয়ায় তিনি হতাশ।

হাটে ঘুরে দেখা যায়, অনেক ক্রেতা গরু দেখলেও দাম না মেলায় কেনাকাটা থেকে বিরত থাকছেন। কেউ কেউ বাজেট অনুযায়ী গরু না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন বা অপেক্ষা করছেন পরবর্তী হাটের জন্য।

ক্রেতাদের মতে, বর্তমানে গরুর দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তবে ঈদের দিন ঘনিয়ে এলে বাজার আরও সক্রিয় হবে বলে আশা করছেন অনেকে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহে এবারের কোরবানির জন্য প্রায় দুই লাখের বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে, যেখানে চাহিদা এর তুলনায় কম। ফলে জেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

বিশেষ করে গরুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ চাপ তৈরি হয়েছে। ছাগল, ভেড়া ও মহিষও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় রয়েছে।


প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বাইরে থেকে অবৈধ পশু প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে খামারিদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ চলছে।

অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, পশুবাহী যানবাহনের নিরাপত্তা, জাল টাকা প্রতিরোধ এবং হাটে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েনসহ নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।

হাট ইজারাদারদের মতে, এখনো মূল ক্রেতারা পুরোপুরি বাজারে আসেননি। ঈদ ঘনিয়ে এলে বেচাকেনা বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।

তবে আপাতত বাজারে সরবরাহ বেশি এবং ক্রেতা কম থাকায় কোরবানির পশুর হাটে এক ধরনের স্থবির পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন