ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন
বৃহস্পতিবার , ১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:১৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আহাদ শেখ (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আহাদ শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আহাদ শেখ ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী গ্রামের মৃত বাদশা শেখের ছেলে। মামলার অপর দুই আসামি মাহিন শেখ ও সরুজ শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস দেন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গোলাম রব্বানী ভুইয়া রতন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের সালথা উপজেলার কাগদী গ্রামের বাসিন্দা মোছা. রোমেছা বেগমের মেয়ে রুবাইয়া বেগমের সঙ্গে একই উপজেলার বল্লভদী গ্রামের আহাদ শেখের কয়েক বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আরও তিন লাখ টাকা দাবি করে স্বামী আহাদ শেখ ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরে এক লাখ টাকা দেওয়া হলেও বাকি দুই লাখ টাকার জন্য রুবাইয়া বেগমের ওপর নিয়মিত চাপ ও নির্যাতন চালানো হয়।
২০১৭ সালের ১ আগস্ট যৌতুকের টাকা নিয়ে স্বামী আহাদ শেখের সঙ্গে রুবাইয়ার বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আহাদ শেখ স্ত্রীকে মারধর করে এবং পরিকল্পিতভাবে বিষাক্ত পদার্থ খাইয়ে দেয়। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহতের মা রোমেছা বেগম বাদী হয়ে সালথা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে সালথা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতিয়ার রহমান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত প্রধান আসামি আহাদ শেখকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী ভুইয়া রতন বলেন, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও হত্যার বিষয়টি আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণে প্রমাণিত হয়েছে। তাই আদালত আসামির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করেছেন। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।
১২১ বার পড়া হয়েছে